সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘কারিগরি ত্রুটির’ কারণে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সব ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগেই কিছু জেলার ফলাফল ওয়েবসাইটে আপলোড হয়ে গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে সরিয়ে ফেলা হয়। তবে তার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই তথ্য ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনা ঘটেছিল। তবে আগামী রোববার ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছেন, ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হলেও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। তবে সহকর্মীদের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন যে, কিছু জেলার ফল প্রকাশিত হয়েছিল।

এর আগে আজ সকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী মুক্তকণ্ঠকে বলেছিলেন, ফল দ্রুতই প্রকাশ করা হবে।

এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবেন। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং বাকি ২০ শতাংশ বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা পাবেন। বৃত্তিপ্রাপ্তদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’—এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়।

পার্বত্য তিন জেলা ব্যতীত দেশের বাকি সব জেলায় গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বিশেষ সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।

এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী সাড়ে পাঁচ লাখ এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) পরীক্ষার্থী ছিল ৯০ হাজার।