ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার হামলার পর বুশেহর প্রদেশে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের একটি স্থাপনায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও এবং ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক সূত্রে এই তথ্য উঠে এসেছে। তবে গালফ নিউজ স্বাধীনভাবে ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি এবং ইরানি কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।

গত মঙ্গলবার রাতে ইরানজুড়ে ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার দাবির পরপরই আইআরজিসির অ্যারোস্পেস স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের ওপর ইরানের হুমকি দুর্বল করাই তাদের এ অভিযানের লক্ষ্য।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমগুলো বুশেহর ও এর আশপাশে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। তবে কোন কোন স্থাপনায় হামলা হয়েছে বা এতে কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য তারা দেয়নি। এদিকে আজ রাতেও ইরানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র; বন্দর আব্বাস ও চাবাহারে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রদেশজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা বলেছেন।

আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনায় ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদাগার, ড্রোন অবকাঠামো বা কমান্ড স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে ওয়াশিংটন বা তেহরান—কোনো পক্ষই এখনো ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রকাশ করেনি। এদিকে ইরানের ৮০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ৮৫টি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তেহরান। কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও ইরানের এই হামলার খবর পাওয়া গেছে।