২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান বিভাগের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং বিষয় পদার্থবিজ্ঞান। বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটির পর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রথম পরীক্ষা হিসেবে পদার্থবিজ্ঞান অনুষ্ঠিত হবে। এই বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের জন্য সঠিক প্রস্তুতি ও কৌশলী পড়াশোনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের প্রভাষক শাহরীন খান।

পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, বিগত বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করলে অধ্যায়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব। টেস্ট পেপারের প্রশ্নের সঙ্গে পাঠ্যবই মিলিয়ে পড়লে মৌলিক ধারণা পরিষ্কার হয়। এছাড়া প্রতিটি অধ্যায়ের সংজ্ঞার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ প্রতিটি সংজ্ঞায় ১ নম্বর থাকে, যা চূড়ান্ত ফলাফলে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

অনুধাবনমূলক অংশের জন্য বইয়ের চিত্র ও ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন ঘটনার কারণগুলো গভীরভাবে বুঝতে হবে। গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য সূত্রাবলি নোট করে পড়ার টেবিলের সামনে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সৃজনশীল প্রশ্নের ‘গ’ ও ‘ঘ’ অংশে মোট ৭ নম্বরের গাণিতিক সমস্যা থাকে, যার জন্য নিয়মিত অনুশীলন এবং বিগত বছরের প্রশ্ন চর্চার কোনো বিকল্প নেই।

পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিটি এমসিকিউয়ের জন্য ১ মিনিট বরাদ্দ রেখে বাকি সময় সৃজনশীল উত্তর লেখা ও রিভিশনের জন্য রাখতে হবে। যেহেতু এবার সব বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা হবে, তাই গুরুত্ব বুঝে সাজেশন তৈরি করে বারবার পড়ার কথা বলা হয়েছে।

অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তিনি নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। ভেক্টর অধ্যায়টিকে তিনটি ভাগে (ভেক্টর বিভাজন-সামান্তরিক সূত্র, নদী-নৌকা ও বৃষ্টির বেগ; ভেক্টরের বীজগণিত এবং ভেক্টর ক্যালকুলাস) ভাগ করে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিউটনীয় বলবিদ্যা থেকে সংঘর্ষ, জড়তার ভ্রামক, কৌণিক ভরবেগ, টর্ক, কেন্দ্রমুখী বল ও ব্যাংকিং; কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি থেকে কর্মদক্ষতা, কুয়া ও পাম্পের সমস্যা, হেলানো তল ও শক্তির নিত্যতা সূত্র; মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ থেকে অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন, মহাকর্ষ সূত্র, মুক্তি বেগ ও কৃত্রিম উপগ্রহ; পদার্থের গাঠনিক ধর্ম থেকে স্থিতিস্থাপক গুণাঙ্ক ও পয়সনের অনুপাত; পর্যায়বৃত্ত গতি থেকে সরল দোলক, স্প্রিং ও সরল ছন্দিত গতি এবং আদর্শ গ্যাস ও গ্যাসের গতিতত্ত্ব অধ্যায়টি গুরুত্ব দিয়ে পড়ার কথা বলা হয়েছে।

সবশেষে তিনি শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সিলেবাসের প্রতিটি অধ্যায় গুরুত্বের সঙ্গে পড়ার এবং উদ্দীপকের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রেখে উত্তর করার পরামর্শ দিয়েছেন।