বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের নিয়মিত কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর বিষয়টি বেশ প্রচলিত। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে কৃমি সংক্রমণের উপসর্গ না থাকলেও প্রতিরোধের অংশ হিসেবে প্রতিবছর এই ওষুধ দেওয়া হয়। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে নিয়মটি কিছুটা ভিন্ন। স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন জানান, বড়দের জন্য শিশুদের মতো ঢালাও কোনো নিয়ম নেই।
সাধারণত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কৃমি প্রতিরোধের প্রধান উপায়। খাবার প্রস্তুত, পরিবেশন ও গ্রহণের আগে হাত ধোয়া, বাসনকোসন পরিষ্কার রাখা এবং কাঁচা সবজি বা ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া জরুরি। এছাড়া খালি পায়ে মাটিতে হাঁটা কৃমি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। শিশুদের ক্ষেত্রে খেলাধুলার সময় সবসময় এসব নিয়ম মানা সম্ভব হয় না বলে তাদের পুষ্টির ঘাটতি ও বিকাশ নিশ্চিত করতে নিয়মমাফিক ওষুধ খাওয়ানো হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বড়দের মধ্যে সবার ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন না থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম (যেমন ৬৫ ঊর্ধ্ব ব্যক্তি, কেমোথেরাপি বা স্টেরয়েড গ্রহণকারী), যারা কৃষিকাজ বা মাটিতে খালি পায়ে কাজ করেন এবং গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের (গর্ভাবস্থায় নয়) প্রতিবছর কৃমির ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া উচ্চ প্রাদুর্ভাবপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী নারী-পুরুষদেরও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
ওষুধের ডোজ সম্পর্কে ডা. তাসনোভা মাহিন জানান, সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বছরে একবার ৪০০ মিলিগ্রামের একটি অ্যালবেনডাজল ট্যাবলেট সেবন করেন। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর সঙ্গে আইভারমেকটিন নামক আরেকটি ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। আইভারমেকটিনের ডোজ নির্ধারণ করা হয় শরীরের ওজনের ওপর ভিত্তি করে (প্রতি কেজিতে ২০০ মাইক্রোগ্রাম)। তাই সঠিক মাত্রা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
কৃমির ওষুধ খাওয়ার সময় নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা কাজ করে। এটি দিনের যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে খাওয়া যায়, তবে দুই বেলার খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে সেবন করা ভালো। অনেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে রাতে ওষুধ খান, তবে এর আলাদা কোনো বিশেষ উপকারিতা নেই। ওষুধ সেবনের পর বমি ভাব, পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা মৃদু জ্বরের মতো সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে তীব্র পেটব্যথা, জন্ডিসের লক্ষণ বা ত্বকে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
সতর্কতা হিসেবে গর্ভাবস্থায় কৃমির ওষুধ সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলেও এই ওষুধ এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া দুগ্ধদানকারী মা এবং যাদের নির্দিষ্ট ওষুধে অ্যালার্জি আছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কৃমির ওষুধ সেবন করা যাবে না।






