রাজধানীর অদূরে সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’র পথসভায় বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বিষয়টি উত্থাপন করলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আখতার হোসেন গতকাল সোমবার সাভারের ওই কর্মসূচিতে হামলার বিবরণ দেন। তিনি বলেন, দেশে সরকারি দলের মতো বিরোধী দলেরও সমাবেশ করার অধিকার আছে। বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ তাঁরা সাভারের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মঞ্চে ওঠার আগে আগে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়। বিদ্যুতের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করতে পারেননি।
বিস্ফোরণের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বক্তব্য চলাকালে শ্রোতাদের মাঝখানে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। এতে অনেকেই হতাহত হন, রক্তাক্ত হন, রক্ত ছড়িয়ে পড়ে। শ্রোতারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।’
সংবিধান অনুযায়ী বিরোধী দলের সমাবেশের অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এনসিপির সদস্যসচিব প্রশ্ন তোলেন, সমাবেশের সময় কেন বিদ্যুৎ থাকবে না? কেন বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়া হলো, সে বিষয়ে তিনি সরকারি দলের কাছে জবাবদিহি চান। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁরা জুলাই নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করলে ‘জুলাইয়ের পতিত শক্তিরা’ নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। এর আগেও এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এনসিপির সভায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও বিস্ফোরণের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সরকারের কাছে তা জানতে চান এই সংসদ সদস্য। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁকে বিষয়টি নিয়ে নোটিশ দেওয়ার অনুরোধ করেন।
পরবর্তীতে ফ্লোর নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘সংসদ সদস্য আখতার হোসেন যে বিষয়টা অবতারণা করেছেন, তা আমরা খুব গুরুত্বসহকারে দেখছি। আমরা আশ্বস্ত করতে পারি, এর সঙ্গে যদি কেউ জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে আইনিভাবে যতটা পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, স্বচ্ছতার সঙ্গে ততটা কঠোর পদক্ষেপ সরকার নেবে।’






