জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, "গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে দেশ রাজনৈতিক সংকটে পড়তে পারে।" তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান প্রধান সংকট হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া, যা বাংলাদেশকে রাজনৈতিক সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য "অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে" এই মানববন্ধন ও জাতীয় সংসদের স্পিকারকে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করে।
এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে ছয় দাবিতে স্পিকারকে স্মারকলিপি দেন ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা। স্মারকলিপির কপি স্পিকারের হাতে তুলে দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম।
মানববন্ধনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী প্রমুখ।
অন্যদিকে, স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। স্পিকারকে স্মারকলিপি দিয়ে মানববন্ধনে যোগ দেন ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা। এ সময় গোলাম পরওয়ার বলেন, "জাতীয় সংসদের অভিভাবক হিসেবে স্পিকারকে সংসদ নেতা ও বিরোধী দলের নেতাকে সঙ্গে নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।" স্পিকার তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে, সংকট নিরসনে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে তাঁর সাধ্য অনুযায়ী একটি উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিক।
মানববন্ধনে ছয়টি দাবি উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও এর অধিবেশন আহ্বান করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
২. জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব ব্যক্তি, পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনা।
৩. জুলাই চেতনার আলোকে আইনের শাসন, মানবাধিকার, জবাবদিহি, সুশাসন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা।
৪. জুলাইয়ের প্রতিটি শহীদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পুনর্বাসন, চিকিৎসা, ক্ষতিপূরণ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব সহায়তা নিশ্চিত করা।
৫. জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও চেতনাকে জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সংরক্ষণ ও গবেষণা করা।
৬. আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা।






