নাটোর সদর উপজেলার মল্লিকহাটি গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী অপু কুমার সরকার ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী এই শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে রয়েছে পারিবারিক ত্যাগ এবং মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের বিশেষ সহায়তা।
একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা অপুর বাবা পেশায় একজন পত্রিকা বিক্রেতা। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে তিনি পরিবারের দায়িত্ব পালন করেন। সীমিত আয়ের কারণে পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণে অনেক সময় আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। সেই কঠিন সময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট। সানিডেইল স্কুলের সহায়তায় মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এইচএসসি পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য বৃত্তি পান অপু।
নিজের এই যাত্রাপথ বর্ণনা করে অপু কুমার সরকার বলেন, "আমার জীবনের পথচলা কখনোই খুব সহজ ছিল না। একটি সাধারণ পরিবারে আমার বেড়ে ওঠা। আমার বাবা একজন পত্রিকা বিক্রেতা। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে তিনি আমাদের পরিবারের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সীমিত আয়ের মধ্যেই আমার পড়াশোনার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা ছিল অবিরাম। কিন্তু আর্থিক বাস্তবতা অনেক সময় সেই স্বপ্নকে কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে।"
বৃত্তির প্রভাব সম্পর্কে তিনি জানান, "এই বৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তাই দেয়নি, দিয়েছে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস। পড়াশোনার খরচের একটি বড় অংশ বহন করতে পেরে আমি আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছি। আমার বিশ্বাস, এই সহায়তা না পেলে পথটা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যেত।"
দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষক ও পরিবারের অনুপ্রেরণা এবং মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়ার সুযোগ পান তিনি। এই অর্জনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "এই অর্জনের পেছনে আমার পরিবারের ত্যাগের পাশাপাশি মুক্তকণ্ঠের অবদানও আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।"
মুক্তকণ্ঠের সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে অপু বলেন, "আমার কাছে মুক্তকণ্ঠ শুধু একটি সংবাদপত্র নয়; এটি অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের নীরব সহযাত্রী। শিক্ষা বৃত্তির মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা কেবল কথায় নয়, বাস্তব কাজের মধ্য দিয়েও প্রকাশ করা যায়। আমার মতো অসংখ্য শিক্ষার্থী এই উদ্যোগ থেকে নতুন জীবনের অনুপ্রেরণা পেয়েছে।"
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আজ আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই মুক্তকণ্ঠ পরিবার, মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট এবং এই মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত সকল মানুষকে। আপনাদের সহায়তা আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে আলো দেখিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও আপনারা এভাবেই অসংখ্য মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াবেন।"
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে অপু জানান, "জীবনের এই অর্জন আমাকে আরও বড় দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আমিও চাই সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে। কারণ আমি নিজেই জানি, সময়মতো পাওয়া একটি ছোট সহায়তা একজন শিক্ষার্থীর পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।"
সবশেষে তিনি বলেন, "মুক্তকণ্ঠের প্রতি রইল আমার হৃদয়ের গভীর থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।"






