ছয়টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেও ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হলো না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নেওয়ার পর পর্তুগিজ এই মহাতারকার কণ্ঠে ঝরল হতাশা, তবে সেই সঙ্গে নিজের অর্জন নিয়ে প্রকাশ করলেন আত্মতৃপ্তিও। জাতীয় দলের হয়ে নিজের সামর্থ্যের সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছেন দাবি করে রোনালদো জানিয়েছেন, বিদায়বেলায় তার বিবেক সম্পূর্ণ নির্ভার।

দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রাপ্তিগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে রোনালদো দাবি করেন, তার আগমনের আগে পর্তুগাল ফুটবলে কোনো বড় শিরোপার স্বাদ পায়নি। অথচ তার নেতৃত্বেই পর্তুগাল তিনটি ট্রফি জয়ের গৌরব অর্জন করেছে।

বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি অধরা থাকলেও ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন সিআরসেভেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ২০১৬ ইউরো জিতেছি। আমার কাছে সেই শিরোপার মর্যাদা বিশ্বকাপ জয়ের সমান। সেই অর্জন চিরকাল আমার সঙ্গেই থাকবে। আগামীকাল নতুন একটি দিন, আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

ইউরো জয়ের পাশাপাশি ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপাও ঘরে তুলেছে পর্তুগাল। নিজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে রোনালদো বলেন, ‘আমি আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। আমার আগে এই দলের কোনো শিরোপাই ছিল না। তাই আমার খুশি হওয়ারই কথা।’

এবারের আসরটিই যে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ, ম্যাচ শেষে পুনরায় তা নিশ্চিত করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। রোনালদো বলেন, ‘হ্যাঁ, এটাই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। এখন আমার সামনে ভাবার সময় থাকবে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ থাকবে। জীবন তো চলতেই থাকবে। আমি বিবেকের কাছে নির্ভার থেকে বিদায় নিচ্ছি। ফুটবলে কখনো জিততে হয়, কখনো হারতে হয়।’

পর্তুগালের জার্সিতে অর্জনের পাহাড় গড়লেও বিদায়ের বিষাদ ছুঁয়ে গেছে তাকে। মাঠের লড়াই নিয়ে রোনালদো বলেন, ‘এভাবে বিদায় নিতে হওয়ায় এখন অবশ্যই খারাপ লাগছে। কিন্তু আমি আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, মাঠে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। আমরা ভালোই খেলেছি, দলের পারফরম্যান্সও খারাপ ছিল না। অবশ্য আরও ভালো করা যেত। তবে স্পেন বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। আমার বিশ্বাস, তারা ফাইনালে উঠবে, অথবা অন্তত তার খুব কাছাকাছি যাবে।’