সংখ্যাতত্ত্বের ওপর অগাধ আস্থা ছিল পর্তুগালের স্প্যানিশ কোচ রবার্তো মার্তিনেজের। কাতার বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে নিজের সেই বিশ্বাসের কথা ঘটা করেই জানিয়েছিলেন তিনি। মাঠের লড়াইয়ে মার্তিনেজের সেই গাণিতিক হিসাব অনেক ক্ষেত্রে মিলে গেলেও, শেষ পর্যন্ত সংখ্যাতত্ত্বের নির্মম পরিহাসের শিকার হয়েই তাকে বিদায় নিতে হলো। স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসে। পর্তুগিজ টিভি চ্যানেল আরটিপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্তিনেজ বলেছিলেন, “আমি সংখ্যাতত্ত্বে বিশ্বাস করি। ৬ সংখ্যাটি আমাদের সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে। ২০১৬ সালে পর্তুগাল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য পায়। ২০০৬ সালেও সেমিফাইনালে ওঠে। পর্তুগাল যা পাওয়ার যোগ্য, এখন তা অর্জনের সময় এসেছে।”
বিশ্বকাপের ময়দানে মার্তিনেজের এই ‘৬’ তত্ত্বের প্রতিফলনও দেখা গিয়েছিল বেশ কয়েকবার। গ্রুপ পর্বে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার ম্যাচে পর্তুগালের হয়ে প্রথম গোলটি আসে ৬ মিনিটে। গোলদাতা জোয়াও নেভেসের জার্সি নম্বর ১৫, যার অংকদ্বয় যোগ করলে (৫+১) যোগফল হয় ৬। আবার উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের দাপুটে জয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও জালের দেখা পান ম্যাচের ঠিক ৬ মিনিটে। উল্লেখ্য, রোনালদো এবার নিজের ক্যারিয়ারের ৬ নম্বর বিশ্বকাপ খেলতে মাঠে নেমেছিলেন।
তবে ডালাসে স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এই সংখ্যাতত্ত্বই বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায় মার্তিনেজের জন্য। ম্যাচটি স্থানীয় সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় ৬ জুলাই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, স্পেনের হয়ে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন মিকেল মেরিনো, যার পিঠের জার্সি নম্বরও ছিল ৬। ১-০ গোলের এই হারে পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পরপরই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন মার্তিনেজ।






