নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার সকালে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই স্বাস্থ্যকর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়।

ভুক্তভোগী আবদুল্লাহ আল কামাল আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল কর্মকর্তা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার চামুরকান্দি এলাকার বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী ফিরোজা বেগম পেটব্যথা নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে দায়িত্বরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল কামাল তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁর স্বামী বিল্লাল হোসেনকে বাইরে থেকে ইনজেকশন কিনে আনতে পাঠান। বিল্লাল হোসেন ইনজেকশন নিয়ে আসেন। ইতিমধ্যে আবদুল্লাহ আল কামাল জরুরি বিভাগের আরেক গুরুতর রোগীকে চিকিৎসা দেন। এর মধ্যে বিল্লাল হোসেন ইনজেকশন নিয়ে ফিরে আসেন। ওই মেডিক্যাল কর্মকর্তা অন্য রোগীর কাছে যাওয়ায় বিল্লাল উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিল্লাল ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন আবদুল্লাহ আল কামালের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে কিল–ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মী চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাঁকে জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে শয্যা না পাওয়ায় পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকেরা জরুরি বিভাগ চালু রেখে বহির্বিভাগসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। খবর পেয়ে আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুর রহমান ও আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। ইউএনও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে চিকিৎসকেরা বেলা একটার পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন।

আড়াইহাজার থানার ওসি সবজেল হোসেন বলেন, চিকিৎসককে মারধরের বিষয়টি জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া দাবি করেন, তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ফিরোজাকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। চিকিৎসকের সহকারী চিকিৎসা না দিয়েই তাঁদের বের করে দিলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে চিকিৎসকেরা মারধরের অভিযোগ তুলে কর্মবিরতি শুরু করেন। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে এবং তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।