চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে হওয়া ‘দাসত্বমূলক’ বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে সমাবেশ হয়েছে। এরপর শাহবাগ থেকে একটি মশালমিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য হয়ে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলন’ ব্যানারে এ সমাবেশ ও মশালমিছিল হয়। বামধারার বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সেন্টমার্টিন-সোনাদিয়া-মাতারবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম বন্দর মূলত মার্কিন ইন্দোপ্যাসিফিক কমান্ডের বাংলাদেশ দখলের ধাপে ধাপে অগ্রযাত্রা। বন্দর-বিমানঘাঁটি মার্কিনদের হাতে তুলে দেওয়ার চূড়ান্ত মুহূর্তে বাংলাদেশ রয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। তাঁরা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে, তার ফলে আমেরিকা বঙ্গোপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করতে পারবে। এ ছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের বন্দর ও বিমানঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৭ মে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। সে সফরে দুই দেশ এর আগে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের শর্ত নিয়ে আলোচনা করে। অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এসব প্রতিবেদনের পটভূমিতে রয়েছে দুটি নির্দিষ্ট চুক্তি—অ্যাকুইজিশন ও ক্রস সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট এবং জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট। এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমান চট্টগ্রাম, মাতারবাড়ীসহ বাংলাদেশের সব বন্দর ও বিমানঘাঁটি জ্বালানি সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজে ব্যবহার করতে পারবে এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ অংশের সীমায় অবস্থান নিয়ে অন্য দেশগুলোর অংশ (ভারত ও মায়ানমার) ও ভারত মহাসাগরের রুটে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি (চীনের পণ্যবাহী ও সামরিক জাহাজ) বিস্তৃত করবে।
কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু সাঈদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভর সঞ্চালনায় এ সমাবেশে কেন্দ্রীয় ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর (একাংশ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার হায়াত, আদিবাসী যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনিরা ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বিসিএল) সভাপতি গৌতম শীল প্রমুখ বক্তব্য দেন।






