প্রিয় পরীক্ষার্থী,

২ জুলাই তোমাদের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে দীর্ঘ দুই বছরের পড়াশোনার চূড়ান্ত মূল্যায়ন হবে। তাই হাতে থাকা সময়টুকু ঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। শেষ মুহূর্তের সঠিক প্রস্তুতিই তোমার কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আশা করি এ ব্যাপারে তোমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

কেন্দ্রে প্রবেশের সময়

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬–এর কেন্দ্রসমূহের আশপাশের যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে কেবলমাত্র পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের ভেতরে সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে প্রবেশ করতে পারবে।

.

সিলেবাস হাতের কাছে রাখো

প্রতিটি বিষয়ের সিলেবাস সব সময় হাতের কাছে রাখবে। কোন অধ্যায় বা অধ্যায়ের বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, তা সিলেবাস দেখে নিশ্চিত হবে। সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিলে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে সময় নষ্ট হবে না।

বহুনির্বাচনি অংশে গুরুত্ব দাও

প্রতিটি বিষয়ের বহুনির্বাচনি অংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থী লিখিত অংশ

ভালো করেও বহুনির্বাচনি বা এমসিকিউয়ে

নম্বর কম পাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারে না। তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, সংজ্ঞা, সাল, সূত্র, মানচিত্র, চিত্র ও তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়ো, মনে রাখার চেষ্টা করো।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার কৌশল শিখো

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার আগে প্রথমে উদ্দীপকটি মনোযোগ দিয়ে পড়বে। সৃজনশীল প্রশ্নটি ভালোভাবে বুঝে নেবে। প্রশ্নে কী চাওয়া হয়েছে, তা নির্ভুলভাবে বুঝে উত্তর লিখতে হবে। উত্তর যেন পাঠ্যবইভিত্তিক, উদ্দীপকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবে।

অযথা কোনো প্রশ্নের উত্তর বড় করার জন্য অপ্রাসঙ্গিক কিছু লিখবে না।

.

বুঝে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলো

মুখস্থ করার পরিবর্তে বিষয়বস্তু বোঝার চেষ্টা করো। যা বুঝে পড়বে, তা দীর্ঘ সময় মনে থাকবে। তবেই পরীক্ষার খাতায় সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারবে।

লিখে অনুশীলন করো

শুধু পড়লেই হবে না, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সমস্যার সমাধান লিখেও অনুশীলন করতে হবে। বাংলা, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, ভূগোল, ইতিহাস, অর্থনীতি ও উচ্চতর গণিতসহ বিভিন্ন বিষয়ে লিখিত অনুশীলন তোমার প্রস্তুতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। আর এটি পরীক্ষায় সময়মতো উত্তর লিখতে সাহায্য করবে।

নিয়মিত রিভিশন দাও

রিভিশন ছাড়া কোনো প্রস্তুতিই পরিপূর্ণ হয় না। প্রতিদিন আগের পড়া বিষয়গুলো আবার দেখে নাও। এতে তথ্য দীর্ঘ সময় মনে থাকবে এবং পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী প্রস্তুতি নাও

যে বিষয়ের পরীক্ষা আগে, সেই বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দাও। প্রতিটি পরীক্ষার পর পরবর্তী বিষয়ের জন্য দ্রুত প্রস্তুতি শুরু করবে।

প্রশ্ন সমাধান করো

বোর্ড পরীক্ষার আগের বছরের প্রশ্নগুলো দেখলে বা সমাধান করলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চিহ্নিত করা সহজ হয়।

.

স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকো

পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত বিশ্রাম এ সময় একজন পরীক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থ শরীর নিয়ে ভালো পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই রাত জেগে পড়ার পরিবর্তে নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে পড়াশোনা করো।

মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকো

অযথা ভয় বা দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগে সময় নষ্ট করবে না। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। মনে রেখো, আত্মবিশ্বাস সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।

পরীক্ষার হলে করণীয়

ক. প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে প্রথমে ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে পড়বে।

খ. সময় ভাগ করে নিয়ে খাতায় উত্তর লিখবে।

গ. উত্তরপত্র পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখবে। অযথা খাতায় কাটাকাটি করবে না।

ঘ. কোনো প্রশ্নই বাদ দেবে না।

ঙ. বহুনির্বাচনির উত্তর দেওয়ার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবে।

মনে রেখো তোমাদের পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসই তোমাদের সাফল্যের মূল শক্তি। শেষ সময়টুকু সঠিকভাবে কাজে লাগাও,

নিয়মিত রিভিশন দাও। পরীক্ষায় তোমরা অবশ্যই ভালো করবে।

  • মাজেদা বেগম, অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত)
    ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা