গাজীপুরের টঙ্গীতে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে একটি কারখানার প্রধান ফটকে অস্ত্রসহ শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় কারখানার ভেতরে থাকা বিদেশি ক্রেতারা দীর্ঘসময় অবরুদ্ধ ছিলেন। গতকাল রোববার বিকেলে নগরের টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীর পাগার এলাকায় ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, রোববার বিকেলে হঠাৎ শতাধিক মোটরসাইকেলে ওই কারখানার সামনে জড়ো হয় এক দল লোক। এতে শ্রমিক-কর্মচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের অনেকে দোকানপাট বন্ধ করে চলে যান। মহড়ায় অংশ নেওয়া অনেকে কারখানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেন। পরে ১০–১২ জনের একটি দল কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে। তারা তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া কারখানার ঝুট অন্য কাউকে না দেওয়ার কথা বলে চলে যায়। এ সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচয় চাইলে তারা সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের লোক বলে দাবি করে।

কারখানাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে বিদেশি ক্রেতা (বায়ার) অবস্থান করছিলেন। এ ঘটনায় তাঁরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দীর্ঘসময় তাঁরা ভেতরে অবরুদ্ধ থাকেন।

ওই কারখানার বর্তমান ঝুট ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনেই ঝুটের ব্যবসা করছি। এখানে নতুন করে অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। কিন্তু হঠাৎ কারখানার প্রধান ফটকে শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে অস্ত্রসহ লোকজন এসে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং শেষে ঝুট দাবি করে গেছে।’

মোটরসাইকেল মহড়ায় থাকা এক যুবক নাম প্রকাশ না করে জানান, ৪৩ ও ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও যুবদলের নেতারা ওই কারখানায় গিয়েছিলেন। মূলত প্রশাসকের সালাম জানাতে তাঁরা কারখানায় গিয়েছিলেন। কারখানার ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলে সবাই চলে এসেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে কারখানাটির ঝুট ব্যবসা স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা সেলিম নিয়ন্ত্রণ করতেন। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে কারখানাটি কিছুদিন বন্ধ ছিল। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে আবার চালু হয়। বর্তমানে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপির দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, ‘ওই কারখানায় মোটরসাইকেলের মহড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। সেখানে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।’