গভীর রাতে স্ন্যাকস খেয়ে শোবার ঘরের চারদিকে প্যাকেট ও কার্টন ফেলে রাখেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে লেখা দুজন সাংবাদিকের নতুন একটি বইয়ে এমন দাবি করা হয়েছে। এ খবর ফাঁস হওয়ার পর ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর প্রশাসনের কর্মীদের বইটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছেন বলে জানা গেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ান ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে একটি নতুন বই লিখেছেন। ট্রাম্পের সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকের মধ্যে এ দুজন অন্যতম। তাঁদের লেখা বইটির নাম ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
এই বইয়ের লেখকদের দাবি, ট্রাম্পের এই খাওয়ার অভ্যাসের কারণে হোয়াইট হাউসের কর্মীদের বাধ্য হয়ে সেসব প্যাকেট ও কার্টন পরিষ্কার করতে হয়।
হ্যাবারম্যান ও সোয়ান তাঁদের বইয়ে লিখেছেন, ‘রাতের বেলা স্ন্যাক্স (হালকা খাবার) খাওয়ার অভ্যাস থাকায় প্রেসিডেন্ট প্রায়ই ময়লার পাত্র বা মেঝেতে পটেটো চিপসের খালি প্যাকেট, স্টারবাকসের মোড়ক এবং আইসক্রিমের কার্টন ফেলে রাখতেন।’
ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম ‘জেটিও’র প্রতিবেদক আসাউইন সুয়েবসেংকে একটি তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অভিযোগের কারণে ট্রাম্প এতটাই ‘ক্ষুব্ধ’ হয়েছেন যে সংবাদমাধ্যমের কারও সঙ্গে এই বই নিয়ে কথা বলতে তিনি কর্মীদের বারণ করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল দ্য ইনডিপেনডেন্ট।
হ্যাবারম্যান ও সোয়ান তাঁদের বইয়ে দাবি করেছেন, হোয়াইট হাউসের কর্মীদের প্রেসিডেন্টের শোবার ঘরের ময়লার পাত্রগুলোর দিকেও নজর রাখতে হতো। কারণ, তাঁরা আবিষ্কার করেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) মাঝেমধ্যে হোয়াইট হাউসের দামি রুপার বাসনপত্রও ডাস্টবিনে ফেলে দিতেন।’
বইটি পাঠকদের ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে হোয়াইট হাউসের ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেয়। এর মধ্যে ট্রাম্পের কথিত দৈনন্দিন অভ্যাসের বিষয়গুলো রয়েছে। বাথরুমে কার্পেট দিতে তাঁর অনুরোধের কথাও জানা গেছে। পানি পড়ে কার্পেটগুলো ভিজে যেত বলে সেগুলো নিয়মিত পাল্টাতে হতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাম্পের সেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জেটিওকে বলেন, প্রেসিডেন্ট নাকি তাঁর সম্পর্কে প্রকাশিত ‘সবকিছুই দেখেছেন’। আর এসব খবরে তাঁকে ‘ভীষণ নোংরা হিসেবে দেখানো হয়’।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আবর্জনা ফেলা এবং বাথরুমের অংশটুকু সম্পর্কে তিনি (ট্রাম্প) জানেন। বইয়ে ছাপানো এই বিষয়গুলোকে তিনি পুরোপুরি বাজে কথা বলে মনে করেন।’
প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে এসব খবরের কোনোটি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। তবে অস্বাস্থ্যকর খাবার, যেমন ডায়েট কোক এবং ম্যাকডোনাল্ডস খাওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস তাঁর রয়েছে। এমনকি মাঝেমধ্যে তিনি তাঁর রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেও এগুলো ব্যবহার করেছেন।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প একটি অ্যাপ্রোন পরেছিলেন। তখন তিনি শ্রমিক শ্রেণির ভোটারদের মনোযোগ কাড়তে আগে থেকে ঠিক করে রাখা ম্যাকডোনাল্ডসের গ্রাহকদের হাতে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তুলে দেন। এ বছরের শুরুর দিকে তিনি তাঁর ‘বকশিশের ওপর কর নেই’ নীতিটি প্রচার করার জন্য ডোরড্যাশ অ্যাপের মাধ্যমে ম্যাকডোনাল্ডসের খাবার অর্ডার করেছিলেন।
স্বাস্থ্য ও মানবসেবাবিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এ বছরের শুরুর দিকে দ্য ক্যাটি মিলার পডকাস্টে প্রেসিডেন্টের খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ‘সব সময় ডায়েট কোক পান করেন’।
কেনেডি মিলারকে বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্টের বিষয়ে মজার ব্যাপার হলো, তিনি খুব খারাপ খাবার খান। যেমন ম্যাকডোনাল্ডস, ক্যান্ডি এবং ডায়েট কোক। আমি জানি না তিনি কীভাবে বেঁচে আছেন, তবে তিনি ঠিকই বেঁচে আছেন।’






