সাধারণত পুলিশ থামায় বেপরোয়া গতির গাড়ি কিংবা ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের। কিন্তু এবার পুলিশকে থামাতে হলো একটি বিশাল কলাকে। অবশ্য এটি আসল কলা নয়, কলার আদলে তৈরি একটি গাড়ি। যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় ঘটেছে এ ঘটনা।

মন্টানা হাইওয়ে প্যাট্রোল (এমএইচপি) গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে দেখা যায়, বিলিংস শহরের কাছে আন্তরাজ্য মহাসড়ক ইন্টারস্টেট ৯০–এর পাশে দাঁড়িয়ে আছে কলার আকৃতির একটি গাড়ি।

বিলিংসের কাছের একটি মন্টানা হাইওয়ে প্যাট্রোল (এমএইচপি) মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করে। ছবির সঙ্গে মজার একটি বার্তাও দেয় পুলিশ। তারা লিখেছে, ‘আমরা অতিরিক্ত গতির গাড়ি, অসতর্ক চালক আর অনেক অদ্ভুত যানবাহন থামিয়েছি। কিন্তু এবারের ঘটনা সত্যিই আলাদা। দেখতে যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, ফলের ক্ষেত্রেও ট্রাফিক আইন প্রযোজ্য।’

এ গাড়ির নির্মাতা ও চালক স্টিভ ব্রেইথওয়েট বলেন, পুলিশের তাঁকে থামানোর ঘটনা নতুন নয়। তিনি বলেন, ‘প্রথম আট-নয় বছর সম্ভবত আমিই ছিলাম যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি থামানো চালক।’

তবে এবার কারণটা ছিল ভিন্ন। গাড়ির পেছনে রাখা কয়েকটি বাক্স তাঁর নম্বরপ্লেট আংশিকভাবে ঢেকে রেখেছিল। গাড়ির নম্বরপ্লেটে লেখা ছিল ‘স্প্লিট’।

পুলিশ বিষয়টি জানিয়ে চালককে সতর্ক করে ছেড়ে দেয়। কোনো জরিমানা করা হয়নি। স্টিভ ব্রেইথওয়েট বলেন, অভিযোগটি যৌক্তিক ছিল।

ব্রেইথওয়েট জানান, এ গাড়ির শুরুটা ছিল ১৯৯৩ সালের একটি ফোর্ড এফ-১৫০ পিকআপ ট্রাক দিয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে পরিবর্তন ও সংস্কার শেষে ২০১১ সালে সেটিকে তিনি কলার আদলের গাড়িতে রূপ দেন।

ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ব্রেইথওয়েট প্রায় ৪০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বসবাস করছেন। শুরুতে নিজের বিজ্ঞাপন ব্যবসার প্রচারণার জন্য এ অদ্ভুত গাড়ি ব্যবহার করতেন তিনি।

তবে সম্প্রতি জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছেন ব্রেইথওয়েট। নিজের বেশির ভাগ সম্পদ বিক্রি করে বাকি জিনিসপত্র গুদামে রেখে দিয়েছেন। এখন তিনি দেশজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।