মহাবিশ্বে হাওয়াই মিঠাইয়ের চেয়ে কম ঘনত্বের দুটি বিশাল আকৃতির গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি কোৎ দা’জুর ও বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার করা নতুন গ্রহ দুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘টিওআই–৭৯১ বি’ ও ‘টিওআই–৭৯১ সি’। অত্যন্ত বিরল গ্রহ দুটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হচ্ছে সুপার–পাফ গ্রহ। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, গ্রহ দুটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১ হাজার ১১০ আলোকবর্ষ দূরে ভোলান্স নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত একটি সূর্যসদৃশ বামন নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। আকারে গ্রহ দুটি আমাদের সৌরজগতের বৃহস্পতির মতো বিশাল হলেও এদের ভর অনেক কম হওয়ায় ঘনত্ব অবিশ্বাস্য রকমের কম। টিওআই–৭৯১ বির ঘনত্ব প্রতি ঘন সেন্টিমিটারে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৩৮ গ্রাম। অন্য গ্রহটির ঘনত্ব প্রতি ঘন সেন্টিমিটারে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৪৭ গ্রাম। ‘মান্থলি নোটিসেস অব দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’ সাময়িকীতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সাধারণ হাওয়াই মিঠাইয়ের ঘনত্ব প্রতি ঘন সেন্টিমিটারে প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ৫ গ্রাম। সেখানে এই গ্রহগুলোর ঘনত্ব তার চেয়ে কম। অন্যদিকে বৃহস্পতি গ্রহের ঘনত্ব ১ দশমিক ৩৩ গ্রাম এবং পৃথিবীর ঘনত্ব প্রতি ঘন সেন্টিমিটারে ৫ দশমিক ৫ গ্রাম। বৃহস্পতির তুলনায় দুই গ্রহ প্রায় ২৮ থেকে ৩৫ গুণ বেশি ফাঁপা বা হালকা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, নতুন গ্রহ দুটি নক্ষত্রের চারপাশের একই গ্যাস ও ধূলিকণার চাকতি থেকে একসঙ্গে তৈরি হয়েছিল। গ্রহ দুটি একটি বিরল মহাকর্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘৫:৩ মিন–মোশন রেজোন্যান্স’ বলা হয়। এর অর্থ হলো, ভেতরের গ্রহটি টিওআই–৭৯১ বি যখন নক্ষত্রের চারপাশে পাঁচটি কক্ষপথ পূর্ণ করে, বাইরের গ্রহটি টিওআই–৭৯১ সি ঠিক তখনই তার তিনটি কক্ষপথ পূর্ণ করে। এই মহাকর্ষীয় কারণে গ্রহ দুটি যখন নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যায়, তখন তাদের সময়ের মধ্যে সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটে।
মহাবিশ্বে এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি সিস্টেমে একাধিক সুপার–পাফ গ্রহের সন্ধান মিলেছে। ফলে গ্রহের গঠন ও বিবর্তন গবেষণায় এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৯ ও ২০২৩ সালে নাসার টিইএসএস স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানে আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রথম এই গ্রহ দুটির সম্পর্কে ধারণা পান। এরপর অ্যান্টার্কটিকার কনকর্ডিয়া স্টেশনে থাকা এস্টেপ টেলিস্কোপের সাহায্যে টানা কয়েক মাস গ্রহগুলোর ট্রানজিট বা নক্ষত্রকে অতিক্রম করার সময় পর্যালোচনা করা হয়।
বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রহগুলোর বায়ুমণ্ডল মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসে ভরপুর, যা তাদের মোট ভরের একটি বিশাল অংশ। সম্ভবত নক্ষত্র থেকে অনেক দূরে, শীতল অঞ্চলে গঠিত হওয়ার কারণে এরা দ্রুত বিপুল পরিমাণ গ্যাস নিজেদের চারপাশে জমা করতে পেরেছিল। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী আমোরি ট্রিয়াউড জানিয়েছেন, নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে অদ্ভুত গ্রহগুলোর রহস্য উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র: ফিজিস ডট অর্গ






