লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দা নিয়ে বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্র-ছাত্রী কল্যাণ সমিতি। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্র-ছাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সৈয়দ আবদুর রহিম বলেন, ‘আজ আমরা কেউই কোথাও নিরাপদ নই। এখন প্রকাশ্যে মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আজকে আমাদের লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো।’
আবদুর রহিম বলেন, ‘দেশে প্রতিনিয়ত অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে। এসব ব্যাপারে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখছি না। তাঁরা বারবার তাঁদের ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।’
রায়পুর উপজেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি লাবিব হাসান রাব্বি বলেন, সেই পরিবারের বেঁচে যাওয়া সদস্য সিফাত গতকাল পর্যন্ত যেভাবে তার পরিবারকে পাশে পেয়েছে কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে সে নিঃস্ব।
হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকের সঙ্গে যুক্ত ছিল উল্লেখ করে লাবিব হাসান বলেন, ‘রায়পুরে মাদকের ব্যবসা অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু প্রশাসন এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এজন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেক বেড়ে যাওয়ায় আজ চোখের পলকে একটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।’
এই ঘটনার বিচার চেয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক এবং সাধারণ সম্পাদক আকাশ আলী এক বিবৃতি বলেছেন, ‘লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সারা দেশের ক্রমবর্ধমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, নারী ও শিশু নির্যাতন, গণপিটুনি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই অংশ।’
বিবৃতিতে বলা হয়, টিআইবির (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) একটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী বিএনপি সরকারের ১০০ দিনে দেশে ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার অধিকাংশরই বিচার হচ্ছে না। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার বলে যাচ্ছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।






