ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বেশি দিন টিকবে না বলে মনে করেন বেশির ভাগ মার্কিন। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে চার নাগরিকের মধ্যে মাত্র একজন মনে করেন, ইরান যুদ্ধে খরচের তুলনায় লাভ বেশি এসেছে।
রয়টার্স/ইপসোস–এর করা নতুন এক জনমত জরিপে এমন মনোভাব জানা গেছে।
পাঁচ দিন ধরে চালানো এ জরিপের কাজ শেষ হয় গত সোমবার। ফলাফলে দেখা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপরও ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার কমে ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বনিম্ন। এর আগে গত এপ্রিলে পরিচালিত একটি জরিপেও তাঁর জনপ্রিয়তা একই স্তরে নেমে এসেছিল।
.ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ভুলের মাশুল গুনছে যুক্তরাষ্ট্র, কৌশলগত হার মানছেন মার্কিনরা.মাত্র ২৩ শতাংশ মার্কিন মনে করেন, যুদ্ধের আগে ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যে অবস্থানে ছিল, সে তুলনায় এখন দেশটি শক্তিশালী অবস্থানে আছে। ট্রাম্পের রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও এ মতের পক্ষে খুব একটা জোরালো অবস্থান দেখা যায়নি। মাত্র ৫০ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আগের চেয়ে শক্তপোক্ত হয়েছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের চেয়ে দুর্বল অবস্থানে আছে। বাকি অংশের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, তাঁরা নিশ্চিত নন। কেউ বলেছেন, যুদ্ধের আগে ও পরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৭ জুন একটি প্রাথমিক চুক্তিতে (সমঝোতা স্মারক) স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তির আওতায় যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি আবার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক চাপও শিথিল করার বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত আছে।
চুক্তির পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে। তবে বেশির ভাগ মার্কিনের জন্য পেট্রলের দাম এখনো ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি রয়েছে। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।
.ইরানে হামলা চালানো থেকে ট্রাম্পকে বিরত রাখতে অবশেষে সিনেটেও বিল পাস.২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা হওয়ার পরপরই ইরান পাল্টা আঘাত হানে। তারা হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্বব্যাপী তেল–বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোতে ইরানের হামলায় বেশ কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেক মানুষ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান যুদ্ধ মোটেও সার্থক ছিল না। মাত্র ২৪ শতাংশ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য যে মূল্য দিতে হয়েছে, তা লাভজনক ছিল। অন্য উত্তরদাতারা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত দিতে পারেননি।
জরিপ অনুযায়ী, ৬৩ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। রিপাবলিকানদের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং প্রতি ১০ জন ডেমোক্র্যাটের ৮ জনই মনে করেন, এ চুক্তি শান্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হবে।
.ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কেন বাধা হচ্ছেন ট্রাম্প, ভ্যান্সকে কি তিনি ব্যর্থ করে দিতে চান.মাত্র ১৮ শতাংশ মার্কিন বিশ্বাস করেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আছে। এ গোষ্ঠীর মধ্যে আছেন ১০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ও ৩৪ শতাংশ রিপাবলিকান।
ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি কমানো ও যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয়বহুল বিদেশি যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের বড় অংশ গড়ে উঠেছে একজন সফল রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী, চুক্তি-সম্পাদনকারী ও রিয়েলিটি টিভি তারকা হিসেবে।
তবে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জরিপে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার খরচ সামলানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকাকে সমর্থন করেন মাত্র ২২ শতাংশ মানুষ, যা তাঁর প্রেসিডেন্টের মেয়াদকালে অন্যতম সর্বনিম্ন।






