প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দ্রুত বদলে যাচ্ছে চেনা পৃথিবী। খেলাধুলার জগতেও বিজ্ঞান এখন নিয়ে এসেছে অভাবনীয় রূপান্তর। উত্তর আমেরিকায় চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে ফুটবলারদের পায়ের বুট থেকে শুরু করে মাঠের বলসহ—সবকিছুতেই লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠে সাড়াজাগানো ৫ প্রযুক্তি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

চলমান বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তি হলো রেফারিদের বডি ক্যামেরা বা রিফ ক্যাম। রেফারিদের শরীরে ক্যামেরা ব্যবহারের এই সিদ্ধান্ত দর্শকদের সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। গোল বা ফাউলের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেফারি ঠিক কী দেখছেন, তা এখন দর্শকেরাও রেফারির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পাচ্ছেন। এতে রেফারিদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হয়েছে। এ ছাড়া ম্যাচ সম্প্রচারের ক্ষেত্রে ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশনের ব্যবহার এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফসাইডের মতো কঠিন সিদ্ধান্তগুলো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি রিভিউ করার পর পর্দায় থ্রি–ডি চিত্রে দেখানো হয়। অপটিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে প্লেয়ারদের অবস্থান ও গতির ডেটা নিয়ে এই দৃশ্য তৈরি করা হয়। দর্শকেরা চাইলে এখন গোলরক্ষকের দৃষ্টিকোণ থেকেও পুরো খেলার ভিউ দেখতে পারেন।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপে প্রথম গোল-লাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। বল গোললাইন অতিক্রম করেছে কি না, তা দেখার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রযুক্তি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। এবারই প্রথম আউট-অফ-বাউন্ডস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। বল মাঠের সীমানার বাইরে গেছে কি না, তা এই প্রযুক্তি নিখুঁতভাবে বলে দেয়। ফলে থ্রো-ইন বা কর্নারের সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হয়েছে। মাঠের কর্মকর্তারা এখন খেলোয়াড় পরিবর্তনের জন্য কাগজের নোটের বদলে ডিজিটাল সাবস্টিটিউশন ট্যাবলেট ব্যবহার করছেন। এই ট্যাবলেটের কারণে খেলোয়াড় বদলের সিদ্ধান্ত দ্রুত ম্যাচ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছায়। একই সঙ্গে তা সঙ্গে সঙ্গে সম্প্রচারকারীদের কাছেও চলে যায়।

ফিফা এই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৪টি দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করেছে। প্রতিটি দলই ম্যাচের আগে ও পরে সমান অ্যানালিটিক্যাল সুবিধা পাচ্ছে। এর জন্য ফিফা এআই প্রো সিস্টেম চালু করেছে। এই সিস্টেমে বিশেষ এআই এজেন্ট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রয়েছে। এই এআই এজেন্ট ম্যাচের জটিল তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে কৌশলগত পরামর্শ দিতে পারে।

প্রতিটি বিশ্বকাপে নতুন বলের আগমন ঘটে। এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বলের নাম অ্যাডিডাস ট্রিওন্ডা। এই বল তৈরিতে মাত্র চারটি প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম প্যানেলবিশিষ্ট বল। পলিইউরেথেন দিয়ে তৈরি এই প্যানেলগুলোতে বিশেষ খাঁজ রয়েছে। আয়োজক তিন দেশের প্রতীক হিসেবে এতে ইগল, ম্যাপল লিফ ও তারকার চিহ্ন আঁকা আছে। এই নকশা বলের অ্যারোডাইনামিকস উন্নত করে এবং বলের গতিপথ স্থিতিশীল রাখে। পূর্ববর্তী বলের মতো ট্রিওন্ডার ভেতরেও একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সর রয়েছে। এই সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার ডেটা পাঠাতে পারে। বলের গতিবিধি ট্র্যাক করে এটি লাইভ ডেটা ম্যাচ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠায়।

ফুটবলারদের বুটের নকশাতেও বিজ্ঞান বড় অবদান রাখছে। গবেষণা বলছে, বুটের ওপরের অংশে বাড়তি প্যাডিং থাকলে শুটিংয়ের নিখুঁত লক্ষ্য ব্যাহত হয়। আর তাই বিশ্বকাপে বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় মেটাম্যাটেরিয়ালস দিয়ে তৈরি থ্রি–ডি প্রিন্টেড বুট ব্যবহার করছেন। এই বুট পায়ে দারুণ আরাম দেয়।

সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট