প্রিয় শিক্ষার্থী, এখন তোমরা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছ। আগামী ডিসেম্বরে তোমাদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি, তোমরা এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
বৃত্তি পরীক্ষার সময়—
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে আগামী ডিসেম্বরের ২০, ২১, ২২ ও ২৩।
জেনে রাখো—
# সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।
# মোট সাধারণ বৃত্তির ৮০ শতাংশ বৃত্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে, আর ২০ শতাংশ বৃত্তি দেওয়া হবে বেসরকারি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে। এটি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা ২০২৬–এর আলোকে দেওয়া হবে।
.কেন বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে—
অনেক শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী, আবার অনেকে এ পরীক্ষায় অংশ নিতে কম আগ্রহী। তোমরা অবশ্যই বৃত্তি পরীক্ষা দেবে। কারণ, বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিলে—
১. পড়াশোনায় একটা ধারাবাহিকতা আসবে।
২. নিয়মমাফিক একটা প্রস্তুতির মধ্যে তুমি প্রবেশ করবে, যা তোমাকে পরবর্তী পরীক্ষায় অনেক সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
৩. ভবিষ্যৎ জীবনে তোমাকে একটা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তাই এই পরীক্ষার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তুমি অভ্যস্ত হয়ে যাবে।
৪. মনে রেখো, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা একটা অর্জন। আর বৃত্তি পাওয়াটা অনেক বড় একটা সাফল্য! এ সাফল্যই তোমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
পরীক্ষার সময়সূচি যেমন হতে পারে—
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নির্ধারিত বিষয় থাকবে মোট ৫টি। আর পরীক্ষা হবে ৪টি বিষয়ের। পরীক্ষার মোট নম্বর থাকবে ৪০০।
# সময় থাকবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
# বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বেশি থাকবে।
.পরীক্ষার বিষয় ও নম্বর—
১. বাংলায় ১০০ নম্বর,
২. ইংরেজিতে ১০০ নম্বর,
৩. গণিতে ১০০ নম্বর,
৪. বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ১০০ নম্বর।
প্রস্তুতি কেমন হবে—
তোমার বৃত্তির প্রস্তুতি হতে হবে সঠিক, যথাযথ ও পরিকল্পনামাফিক। আর এটা নিতে হবে এখন থেকেই। সব মিলিয়ে সময় পাবে ছয় মাস। এ সময়ের মধ্যেই তোমাকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
পরীক্ষার টাইম ম্যানেজমেন্ট—
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা হবে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ওপর। বৃত্তির সিলেবাস ও নম্বর বণ্টনের আলোকে প্রতিটি পরীক্ষায় বরাদ্দ সময় হলো
২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। অর্থাৎ ১৫০ মিনিটকে ভাগ করে নিয়ে টাইম ম্যানেজমেন্ট করে নিতে হবে।
মনে রেখো, বাংলায় ১৫টি, ইংরেজিতে ১৩টি, প্রাথমিক গণিতে ১১টি, আর প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে মোট ৮টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে (২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষার সিলেবাস অনুসারে)। প্রতিটি বিষয়ের উত্তর লেখার ধরন কিন্তু ভিন্ন রকম। আর সিলেবাস নিয়ে কোন প্রশ্নের উত্তর লিখতে কত সময় নেবে, তা পরীক্ষার আগেই ঠিক করে নাও।
.কেমন প্রশ্ন থাকতে পারে—
প্রাথমিক বৃত্তি একটি প্রতিযোগিতামূূলক পরীক্ষা। তাই তোমাকে এরই মধ্য দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এই যোগ্যতা অর্জনের জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হবে। তুমি তো জানো, বৃত্তিতে বিষয় থাকবে ৫টি, কিন্তু পরীক্ষা হবে ৪টি বিষয়ের ওপর।
বাংলা বিষয়ে সারা পাঠ্যবই থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন হবে। গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, ব্যাকরণ ইত্যাদি থেকে অনেক ধরনের প্রশ্ন হবে। সব খুঁটিনাটি প্রশ্ন। মনে রেখো, যেমন থাকবে বড় প্রশ্ন, তেমনি থাকবে ছোট প্রশ্নও। এক কথায় প্রকাশ, প্রবন্ধ রচনা লেখা, যুক্তবর্ণ বিভাজন ইত্যাদি আরও অনেক ধরনের প্রশ্ন পরীক্ষায় আসে।
ইংরেজি বিষয়ে কাঠামোভিত্তিক প্রশ্ন থাকে। সিন ও আনসিন প্যাসেজ পড়ে উত্তর, রিঅ্যারেঞ্জ, ব্যক্তিগত চিঠি, শর্ট কম্পোজিশন, বিরামচিহ্ন ঠিক করাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন থাকে।
গণিত বিষয়ে বহুনির্বাচনি প্রশ্ন, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, শূন্যস্থান পূরণ—এই তিন ধরনের প্রশ্ন থাকবে।
প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে বহুনির্বাচনি প্রশ্ন, মিলকরণ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও বিস্তৃত উত্তর–প্রশ্ন থাকবে। মনে রেখো, রুটিনমাফিক প্রস্তুতিই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের সহায়ক হয়ে ওঠে।
রমজান মাহমুদ, সিনিয়র শিক্ষক
গবর্নমেন্ট সায়েন্স হাইস্কুল, ঢাকা






