স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ যে এত দিন স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে পণ্য আমদানিতে প্যারা ট্যারিফ, অর্থাৎ শুল্কের বাইরে অতিরিক্ত কর আরোপ করে এসেছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর তা আর পারা যাবে না। বাংলাদেশ এত দিন নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি), সম্পূরক শুল্ক (এসডি) এবং ন্যূনতম শুল্কমূল্য, অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ইত্যাদি প্যারা ট্যারিফ আরোপ করে এসেছে। এলডিসি উত্তরণের পর সেটি আর পারবে না। তাই এখন নতুন উপায় হিসেবে বাংলাদেশকে এখন ট্রেড রেমেডি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হবে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) জন্য বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন সুপারিশ করা হয়েছে। জরিপ, সাক্ষাৎকার, ফোকাস গ্রুপ আলোচনা এবং অর্থনৈতিক মডেল বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে এ প্রতিবেদন। এতে বাংলাদেশের বর্তমান বাণিজ্য সুরক্ষাকাঠামো, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, রপ্তানিকারকদের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উন্মুক্ত বাণিজ্য পরিবেশে দেশি শিল্প ও রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা। এ জন্য শুধু শুল্ক সুরক্ষার ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক নিয়মের মধ্যে থেকে কার্যকর ট্রেড রেমেডি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় সস্তা ও ভর্তুকিপ্রাপ্ত আমদানির চাপের মুখে অনেক দেশি শিল্পেরই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

.

প্রতিবেদনে পাট, হাইড্রোজেন পার–অক্সাইড, বস্ত্র, গ্লাভসসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের রপ্তানির বিরুদ্ধে থাকা মামলা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধান সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে আইনি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতার ঘাটতি এবং তথ্য ও কারিগরি সক্ষমতার অভাব। এমনকি বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত হলে তার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। তাই এলডিসি উত্তরণের আগে ও পরে বাংলাদেশের জন্য দরকার একটি শক্তিশালী এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাভিত্তিক (ডব্লিউটিও) ট্রেড রেমেডি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে প্যারা ট্যারিফের পরিবর্তে প্রমাণভিত্তিক প্রতিকারব্যবস্থা কার্যকর করা যায়।

প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কী করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান গতকাল সোমবার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণ তিন বছর পেছানোর জন্য বাংলাদেশ আবেদন করেছে। আশা করছি, তিন বছর পাওয়া যাবে। এর কম সময় পাওয়া গেলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমরা প্রস্তুত। বিএফটিআইয়ের গবেষণা প্রতিবেদনের সুপারিশগুলোও আমরা গুরুত্বের সঙ্গেই নেব।’

.

ট্রেড রেমেডি কী

ট্রেড রেমেডি হচ্ছে অন্যায্য আমদানি প্রতিযোগিতা থেকে দেশি শিল্পকে রক্ষার জন্য ডব্লিউটিও অনুমোদিত বাণিজ্য প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা আইনি ব্যবস্থা। বিদেশি কোনো দেশ বা কোম্পানি যদি বাংলাদেশে পণ্য ডাম্পিং বা অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রি করে, সরকারি ভর্তুকি নিয়ে কম দামে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি করে অথবা হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশি শিল্পের ক্ষতি করে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে ট্রেড রেমেডি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

ট্রেড রেমেডির প্রধান তিনটি ধরন হচ্ছে অ্যান্টি-ডাম্পিং ডিউটি, কাউন্টারভেইলিং ডিউটি ও সেফগার্ড ব্যবস্থা। উৎপাদন খরচ বা নিজ দেশের বাজারদরের চেয়ে কম দামে কোনো পণ্য অন্য দেশে রপ্তানি করা হলে তাকে ডাম্পিং বলে। এতে দেশি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা যায়।

আবার রপ্তানিকারক দেশের সরকার যদি ওই দেশের কোনো শিল্পকে ভর্তুকি দেয় এবং সেই সুবিধা নিয়ে পণ্য কম দামে রপ্তানি করে, তাহলে সেই ভর্তুকির প্রভাব সমন্বয় করতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়। যেমন ভারত সরকার কোনো ইস্পাত কারখানাকে ভর্তুকি দিলে তারা কম দামে ইস্পাত রপ্তানি করতে পারে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ তখন ভারতীয় ইস্পাতে সিভিডি আরোপ করতে পারে।

.

এ ছাড়া হঠাৎ কোনো পণ্যের আমদানি অনেক বেড়ে গেলে এবং তাতে দেশি শিল্প ক্ষতির মুখে পড়লে সাময়িকভাবে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ খেলনা আমদানি হলে যদি স্থানীয় খেলনাশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাংলাদেশ তখন সেফগার্ড ব্যবস্থা নিতে পারবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিট পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি পথনকশা তৈরি করা দরকার। বেসরকারি খাতকে নিয়ে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে এ ব্যাপারে শিগগিরই প্রস্তুতিমূলক কাজে মনোযোগ দিতে হবে। কাজটি হচ্ছে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।’

.

সুরক্ষা প্রয়োজন ৯২ পণ্যে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণা দল দেখেছে, এইচএস চার অঙ্কের শ্রেণিবিন্যাসে অন্তত ৯২টি পণ্য সুরক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে ১৫টি পণ্যের ক্ষেত্রে দেশি বাজারে ডাম্পিংয়ের ঝুঁকি রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের তালিকায় রয়েছে শুকনা ফল, চিনিজাত মিষ্টান্ন, সংরক্ষিত ফল ও বাদাম, গাড়ি ও মোটরসাইকেলের রাবার টায়ার, স্প্লিট এয়ারকন্ডিশনার ও খেলনা। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বস্ত্রপণ্যও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, তুলার বোনা কাপড়, সিনথেটিক ও কৃত্রিম তন্তুর কাপড়, পাইল ও শেনিল কাপড়, টিউল ও জালজাতীয় কাপড়, প্রলেপযুক্ত বস্ত্র এবং নিট কাপড়ের ক্ষেত্রে দেশি উৎপাদকদের প্রতিযোগিতার চাপ বাড়তে পারে। এসব পণ্য বর্তমানে ন্যূনতম শুল্কমূল্যের আওতায় রয়েছে। ফলে এলডিসি উত্তরণের পর দেশি শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে।

.

ভারত-চীনের ১২ পণ্যে সিভিডির প্রস্তাব

গবেষণায় ভারত ও চীনের বিভিন্ন ভর্তুকি কর্মসূচির আওতায় উৎপাদিত ১২টি পণ্যের বিরুদ্ধে কাউন্টারভেইলিং ডিউটি আরোপের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ভারত থেকে আমদানি হওয়া পেঁয়াজ, ডাই ও পিগমেন্ট, তুলার সুতা, সিনথেটিক বস্ত্র, স্টিল বিলেট, স্টেইনলেস স্টিলের পণ্য ও ইলেকট্রনিক ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (পিএলআই), মূলধনি ভর্তুকি ও বিশেষ সহায়তার উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে চীনের কৃষিযন্ত্রের যন্ত্রাংশ, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং সৌর প্যানেল উৎপাদনে সরকারি অনুদান, কর অব্যাহতি, ভ্যাট–সুবিধা ও অন্যান্য সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এসব ভর্তুকি সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে কৃত্রিম মূল্য সুবিধা তৈরি করতে পারে। ফলে দেশি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডব্লিউটিওর নিয়ম অনুযায়ী, সিভিডি আরোপের সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আগে যথাযথ তদন্ত ও ক্ষতির প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

.

দুর্বলতা সক্ষমতায়, জোর সংস্কারে

রপ্তানিকারকদের কিছু দুর্বলতাও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। জুট, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, টেক্সটাইল, গ্লাভসসহ বিভিন্ন খাতের বিরুদ্ধে বিদেশে অ্যান্টি-ডাম্পিং ও কাউন্টারভেইলিং তদন্তের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ, আইনি প্রতিরক্ষা এবং কারিগরি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। রপ্তানিকারকদের সবচেয়ে বড় সমস্যা প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতার ঘাটতি। পাশাপাশি তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘসূত্রতাও বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

ভারত, পাকিস্তান, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এসব দেশে ট্রেড রেমেডি ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে ডিজিটাল মনিটরিং, আগাম সতর্কতাব্যবস্থা, দ্রুত তদন্ত, বিশেষায়িত জনবল ও শক্তিশালী তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হয়েছে।

গবেষণায় একটি এইচএস ৬-ডিজিটভিত্তিক আগাম সতর্কতাব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

.

আরও যেসব নীতিগত সুপারিশ

দেশের রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সুপারিশ উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ভৌগোলিকভাবে তুলনামূলক কাছাকাছি। এসব দেশের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বন্দর ব্যবস্থাপনা, পরিবহন অবকাঠামো ও বাণিজ্য সহায়তাব্যবস্থা উন্নত করে পরিবহন ব্যয় কমাতে হবে। বাড়াতে হবে পণ্যের মানোন্নয়ন ও বৈচিত্র্য। এতে নির্দিষ্ট দেশ বা খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি কমবে।

বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে ডব্লিউটিওর সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তিতে সক্রিয় হতে হবে। কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও বাণিজ্যপ্রবাহ অনেক ক্ষেত্রে স্থিতিশীল থাকে। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক কূটনীতি সচল রাখার কৌশল নিতে হবে। স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক উত্তেজনা যেন বাণিজ্যকে প্রভাবিত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিবেদনে বিটিটিসির অধীন বিশেষায়িত ট্রেড রেমেডি ইউনিট গঠন, আগাম সতর্কতা ড্যাশবোর্ড চালু, রপ্তানিকারকদের জন্য ডিফেন্স সেল প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয় জোরদার করার সুপারিশ এসেছে। একটি পথনকশার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে, যার একটি হবে ছয় মাসের জন্য স্বল্প মেয়াদে, অন্যটি তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে।

.

গবেষকদের মতে, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উন্মুক্ত বাণিজ্যব্যবস্থায় দেশি শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা। এ জন্য শুল্কনির্ভর সুরক্ষা থেকে সরে এসে তদন্ত ও প্রমাণভিত্তিক ট্রেড রেমেডি ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, তথ্যভান্ডার এবং রপ্তানিকারকদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে। তা না হলে সস্তা ও ভর্তুকিপ্রাপ্ত আমদানির চাপে দেশের বিভিন্ন শিল্প খাত বাড়তি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

যোগাযোগ করলে বাণিজ্যবিশেষজ্ঞ এবং বিটিটিসির সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘দিন ঘনিয়ে আসছে এবং প্যারা ট্যারিফ যে আর রাখা যাবে না, এটাই চূড়ান্ত কথা। এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কাছ থেকে পণ্য উৎপাদন ও আমদানি তথ্যের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিপরীতে প্রতিকার পাওয়ার জন্য একটা আবেদন করার সক্ষমতার ঘাটতিও আছে আমাদের।’