আধুনিক প্রযুক্তির জোয়ারে যখন বিশ্বজুড়ে শ্রেণিকক্ষগুলোকে আরও বেশি ডিজিটালাইজড করার প্রতিযোগিতা চলছে, ঠিক তখনই উল্টো পথে হাঁটার এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের দেশ নরওয়ে। আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে নরওয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুলের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরে।

জোনাস গার স্টোরে জানিয়েছেন, এআই প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের কারণে শিশুরা পড়া, লেখা এবং গণিত শেখার মতো শিক্ষার সবচেয়ে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এটি শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। ক্লাসরুম থেকে একের পর এক আধুনিক প্রযুক্তিকে বিদায় জানানোর যে ধারাবাহিকতা নরওয়েতে শুরু হয়েছে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞা তারই একটি বড় অংশ।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরওয়ে সরকারের নতুন নিয়মটি বয়স ও শ্রেণিভেদে কয়েকটি স্তরে কার্যকর করা হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণির শিশুদের জন্য স্কুলে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করতে পারবে, তবে তা কোনোভাবেই স্বাধীনভাবে নয়। শ্রেণিকক্ষ শিক্ষকের সরাসরি তত্ত্বাবধান বা নজরদারিতে কেবল শিক্ষণীয় কাজে এটি ব্যবহার করা যাবে। তবে উচ্চমাধ্যমিক বা তার ওপরের স্তরের শিক্ষার্থীরা চাইলে এআই টুল ব্যবহার করতে পারবেন।

শ্রেণিকক্ষ থেকে প্রযুক্তিকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে নরওয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতা বেশ ইতিবাচক। ২০২৪ সালে দেশটি স্কুলগুলোতে স্মার্টফোন ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছিল, যার ফলে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফল পাওয়া গেছে।

গবেষক সারা আব্রাহামসনের নেতৃত্বে নরওয়ের ৪০০টিরও বেশি মিডল স্কুলে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করার পর স্কুলগুলোতে বুলিং বা সহপাঠীদের উত্ত্যক্ত করার হার নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার গ্রেড বা ফলের উন্নতি হয়েছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, শিক্ষার্থীদের মানসিক চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার হার প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে।

শিশুদের সুরক্ষায় নরওয়ের এই প্রযুক্তিবিরোধী অবস্থান কেবল শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ নেই। গত এপ্রিলে দেশটির সরকার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে একটি নতুন আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই বিলটি নরওয়ের সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে।

সূত্র: নেক্সট ওয়েব