আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজার বা শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশে শেয়ারবাজার বলে কিছু নেই। এটি ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা এই ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসতে শুরু করেছি। ইতিমধ্যে আপনারা লক্ষ করেছেন, শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছি। এখানে আমরা কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দিইনি। যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা শেয়ারবাজারের ভেতর ও বাইরের খবর জানেন।’
রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের মিলনায়তনে আজ সোমবার আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক আলোচনায় এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শেয়ারবাজারের প্রয়োজনীয় সব সংস্কারকাজ একসঙ্গে শুরু করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা এসব সংস্কারের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত করতে চাচ্ছি, যারা বিনিয়োগকারী, তারা যেন প্রতারণার শিকার না হয়। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে কোনো ভালো কোম্পানি এখন আসছে না। তার কারণ তাদের আস্থা নেই। আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরানো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে উদ্যোগ নিচ্ছি, তাতে ইতিমধ্যে বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে। জেপি মরগানের মতো কোম্পানি দুইবার আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। তারা বিনিয়োগ করতে চায়।’
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। এতে আমাদের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।’
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সহযোগিতায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এই সেমিনারের আয়োজন করে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলী। সঞ্চালনা করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের জীবন সহজ করতে চাই। সে জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই নিয়ন্ত্রণ থেকে জনগণকে মুক্ত করতে চাই। কারও পেছনে ঘুরতে হবে না। কারও তাঁবেদারি করতে হবে না। এটি বাস্তবায়ন করতে বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। কেউ যদি বাধা হয়ে তাঁকে পেছনের দরজার দিয়ে বের করে দেওয়া হবে।’
সেমিনারে বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের (বিসিআই) চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল আলম চোধুরী (পারভেজ), অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার মামুন রশিদ, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান র্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মোজিবুল হক, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মোহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু আহমেদ প্রমুখ।






