অস্ট্রেলিয়ার ‘টাউন ক্রাইয়ার’ (নগর ঘোষক) জোসেফ ম্যাকগ্রেইল-বেটআপ ‘লর্ড জোসেফ’ নামেও পরিচিত। ১২২ দশমিক ৪ ডেসিবল তীব্রতায় চিৎকার করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়েছেন তিনি।

ডেসিবল হলো শব্দের তীব্রতা প্রকাশে ব্যবহৃত পরিমাপের একটি একক। মানুষ স্বাভাবিকভাবে প্রায় ৬০ ডেসিবল তীব্রতায় কথা বলে থাকে। ৮৫ ডেসিবলের বেশি তীব্রতার শব্দ মানুষের কানের জন্য ক্ষতিকর।

ব্লেন্ডারের শব্দ, ঘাস কাটার যন্ত্র কিংবা ড্রিল মেশিনের শব্দের তীব্রতা ৯০ ডেসিবলের মতো হয়।

ক্যানবেরা ও কুইনবিয়ান শহরের সরকারি টাউন ক্রাইয়ার জোসেফের কণ্ঠস্বর আগে কিন্তু এতটা শক্তিশালী ছিল না। তিনি কণ্ঠের চর্চা করে আজ এ পর্যায়ে পৌঁছেছেন।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষকে জোসেফ বলেন, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন কণ্ঠ তেমন জোরালো ছিল না। আমি খুব লাজুক ছিলাম, সব বিষয় নিজের মধ্যেই চেপে রাখতাম। স্কুল ছাড়ার পর যখন থিয়েটারে যোগ দিই, তখন স্পষ্ট বুঝে যাই, আমাকে আরও জোরে কথা বলতে হবে, নিজের কণ্ঠকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে।’

কীভাবে কণ্ঠের চর্চা করে নিজের স্বরের তীব্রতা বাড়িয়েছেন, সেটি জানান জোসেফ। বলেন, ‘আমি এমন থিয়েটারে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করি, যেখানে মাইক্রোফোন বা এ ধরনের কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা হতো না। সেখানেই আমার কণ্ঠ জোরালো হয়ে ওঠে। আর বছর যত গড়িয়েছে, তা আরও বেশি ধারালো হয়েছে।’

২০১৭ সালে নগর ঘোষক পদে নিয়োগ পান জোসেফ ম্যাকগ্রেইল। ২০২২ সাল থেকে ‘অ্যানশিয়েন্ট অ্যান্ড অনারেবল গিল্ড অব অস্ট্রেলিয়ান টাউন ক্রাইয়ার্স’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শুরু করেন।

জোসেফ বলেন, ‘প্রথম বছর আমি প্রতিযোগিতার কয়েকটি বিভাগে ভালো স্থান অর্জন করি। তবে ২০২৪ সালে ৯৮ ডেসিবল মাত্রার চিৎকার করে সবচেয়ে জোরালো কণ্ঠের বিভাগে প্রথম হই।’

গত মে মাসে জোসেফ ১২২ দশমিক ৪ ডেসিবল তীব্রতায় চিৎকার করে পুরুষ বিভাগে সবচেয়ে জোরালো চিৎকারের গিনেস রেকর্ড গড়েন।

জোসেফ বলেন, ‘এ বছরের শুরুতে ভাবছিলাম, একটু ভিন্নধর্মী কী করা যাক। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস আমার কাছে নতুন কিছু নয়—আমি আগে তিরন্দাজ হিসেবে একটি রেকর্ড গড়েছি। এবার “চিৎকার” বিষয়ক রেকর্ড খুঁজে দেখি। আর ছয় মাস পর আজ আমি সেই রেকর্ডের মালিক।’

বিশ্ব রেকর্ড গড়তে কণ্ঠ অনুশীলনের পাশাপাশি কিছু কৌশলও গ্রহণ করেন জোসেফ। বলেন, ‘আমি ও আমার মেয়ে মিলে এমন একটি শব্দ খুঁজেছিলাম, যা সর্বোচ্চ ডেসিবল তুলতে সাহায্য করবে। আগে ব্যবহৃত শব্দ ছিল “কোয়াইট”, কিন্তু সেটি যথেষ্ট জোরালো ছিল না। শেষ পর্যন্ত আমরা “নাউ” শব্দ বেছে নিই।’