ব্যবহৃত গাড়ির মতোই পুরোনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারও এখন বেশ চাঙা। ‘গ্লোবাল মার্কেট ইনসাইটস’ নামের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এই বাজারের আকার প্রায় ১৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। আর বিশ্বজুড়ে কম্পিউটার মেমোরির ঘাটতির কারণে গেম কনসোল, স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে বাজেটের মধ্যে পুরোনো যন্ত্র দিয়ে কাজ চালাতে চাওয়া ক্রেতাদের কাছে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্য দিন দিন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
তবে কম দামে ভালো পণ্য পাওয়ার সুযোগ থাকলেও এ ধরনের কেনাকাটায় কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। তাই ব্যবহৃত প্রযুক্তিপণ্য কেনার আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
ফেসবুক মার্কেটপ্লেসের মতো প্ল্যাটফর্মে পুরোনো ও ব্যবহৃত ডিভাইস অনেক কম দামে পাওয়া যায়। এমনকি অনেক সময় অর্ধেক দামেও বিক্রি করার পোস্ট দেখা যায়। তাই এসব ডিভাইস কেনার আগে তা ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে। যন্ত্রটি কোনো পাসওয়ার্ড বা করপোরেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার দিয়ে লক করা আছে কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে। এ জন্য বিক্রেতার সামনেই পুরো সেটআপ প্রসেসটি দেখা যেতে পারে। যন্ত্রে অ্যাপ চালিয়ে দেখা এবং স্পিকার ও পাওয়ার বাটনও পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া যেতে পারে।
পুরোনো যন্ত্র কম দামে কেনা গেলেও সব ধরনের প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহৃত অবস্থায় কেনা উচিত নয়। ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন ইউএস পিআইআরজির বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আকারের টেলিভিশন, দীর্ঘদিন ব্যবহৃত প্রিন্টার এবং ব্যবহৃত স্মার্ট ঘড়ি কেনার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা উচিত। এসব পণ্যের বিভিন্ন অংশ সময়ের সঙ্গে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সাধারণত টিভির পর্দা বেশ বড় ও নাজুক হয়, প্রিন্টার সময়ের সঙ্গে ক্ষয় হয়ে যায় এবং স্মার্ট ওয়াচ বা ব্যান্ড অন্য মানুষের ঘামে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এমনকি রিফারবিশড এয়ারপডস বা ইয়ারবাডসও কেনা উচিত নয়। অনেক সময় ইয়ারবাড বিক্রির পরেও আগের মালিকের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। ফলে এয়ারপডস হারিয়ে গেলে তা খুঁজে বের করার সফটওয়্যার ফিচার ‘ফাইন্ড মাই’ ঠিকমতো কাজ করে না।
কম দামে ব্যবহৃত পণ্য কেনার ক্ষেত্রে পরিচিত প্রতিষ্ঠানকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। অ্যামাজনের মতো অনেক প্রতিষ্ঠানে রিফারবিশড পণ্য পাওয়া গেলেও সবার রিটার্ন পলিসি রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। রিটার্ন পলিসি না থাকলে পণ্য না কেনাই ভালে। সাধারণত এ ধরনের সুবিধা বড় ও প্রতিষ্ঠিত বিক্রেতাদের কাছ থেকেই পাওয়া যায়। তাই ব্যবহৃত প্রযুক্তিপণ্য কেনার ক্ষেত্রে বিক্রেতার পণ্য ফেরতনীতি এবং বিক্রয়োত্তর সেবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
ইউএস পিআইআরজির রিফারবিশড পণ্য কেনার গাইডলাইন অনুযায়ী, ‘ব্যাক মার্কেট’ এবং ‘ভিআইপি আউটলেট’ এর মতো অনেক নামী রিফারবিশড পণ্য বিক্রেতাদের বেশ ভালো রিটার্ন পলিসি রয়েছে। তবে কোনো ত্রুটিপূর্ণ পণ্য কেনার ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো, পণ্যটি যে কোম্পানি তৈরি করেছে, সরাসরি তাদের কাছ থেকেই রিফারবিশড সংস্করণটি কেনা। অ্যাপলের নিজস্ব ওয়েব স্টোর থেকেও রিফারবিশড পণ্য কেনার সুযোগ রয়েছে।
ব্যবহৃত প্রযুক্তিপণ্য কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ডিভাইসটি আর কত দিন ব্যবহার করা যাবে।
প্রযুক্তিপণ্যের আয়ু সীমিত। একসময় নির্মাতারা সফটওয়্যার হালনাগাদ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে আসে। কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে সেটি মেরামত করাও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। স্ক্রিনের মতো পার্টস ভেঙে গেলে কিছু ডিভাইস মেরামত করাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে অ্যাপল, স্যামসাং ও গুগল তাদের স্মার্টফোনে প্রায় সাত বছর পর্যন্ত সফটওয়্যার সমর্থন দিয়ে থাকে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ব্যবহৃত ফোন বা ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে দুই বছরের বেশি পুরোনো ডিভাইস না কেনাই ভালো। এতে অন্তত আরও পাঁচ বছর সফটওয়্যার হালনাগাদ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
একই সঙ্গে ব্যাটারি পরিবর্তনের খরচ এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কেও আগে থেকে খোঁজ নেওয়া উচিত। কারণ, ব্যবহৃত প্রযুক্তিপণ্যের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারযোগ্যতা অনেকাংশে ব্যাটারির অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞদের মতে, কেনার আগে ডিভাইসের বয়স, সফটওয়্যার সমর্থন, ব্যাটারির অবস্থা এবং বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করলে কম খরচে ভালো মানের ব্যবহৃত প্রযুক্তিপণ্য কেনা সম্ভব। পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত ঝুঁকিও অনেকাংশে এড়িয়ে চলা যায়।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস






