যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের মধ্যে সদ্য সই হওয়া সমঝোতা স্মারক তথা প্রাথমিক চুক্তি এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণে সামরিক অভিযান জোরদার করায় অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পুরো প্রক্রিয়াই ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সই করার আগে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনার জন্য ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলতি সপ্তাহের শুরুতে সমঝোতা স্মারক চুক্তিতে সই করেছে। পরিকল্পনা ছিল, সুইজারল্যান্ডে গতকাল শুক্রবার দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে।
কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের নৃশংস বোমা হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শেষ মুহূর্তে তাঁর সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেন। এরপর ইরান জানায়, লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ না দেখা পর্যন্ত তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত নয়।
অবশ্য গতকাল দিনের শেষে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ আলোচনায় অংশ নেবেন।
.বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও কিছুই মানছে না যুদ্ধবাজ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার। দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো সম্ভাবনাকে ব্যাহত করতে পারে। বর্তমানে ইসরায়েল লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা দখল করে আছে।
গত ২ মার্চ থেকে প্রায় প্রতিদিন সেখানে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এতে তিন হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।
.কাউকে খুঁজছেন বলে প্রতিবার একটি আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দিতে হবে না। কারণ, ওই ভবনগুলোতে অনেক মানুষ থাকে, আর তারা সবাই হিজবুল্লাহ নয়।ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্র
চুক্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ে লেবাননের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করবে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁদের বাহিনী লেবাননে দখলকৃত এলাকা থেকে সরবে না। দেশটির কয়েকজন মন্ত্রী এটাও বলেছেন, ‘পুরো লেবাননকে জ্বলতে দেওয়া উচিত।’
এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট৶–ইরানের চুক্তি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আদৌ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন কি না—তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
.আলোচনার জন্য নির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর কেন বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। আলোচনাটি সুইজারল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় লুসার্নের কাছে স্ট্যানসস্টাডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে হওয়ার কথা ছিল।
হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে, আসন্ন কারিগরি পর্যায়ের আলোচনার পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।...ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল যেকোনো সময় সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে যাত্রার জন্য প্রস্তুত ছিল।
.ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সহযোগী, কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেছেন, পুরো লেবাননকে জ্বলতে দিতে হবে।.
তবে বিবৃতিতে যোগ করা হয়েছে, ‘এ ধরনের আলোচনার আয়োজন ও সমন্বয়ের কাজে সব সময় জটিলতা ও অনিশ্চয়তা থাকে। আপাতত ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে সফর করছেন না।’
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আলোচনায় যাবেন কি না, তা নিয়ে ইরানের আলোচকেরা এখনো নিশ্চিত নন। অন্তর্বর্তী চুক্তি বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি হচ্ছে কি না, তা দেখে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে চান। এ চুক্তিতে লেবাননকে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে জানায়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে হওয়া প্রাথমিক চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে পরিকল্পিত আলোচনাগুলো ‘স্থগিত’ করা হয়েছে। অবশ্য স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে মার্কিন আলোচক দল সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছে।
.স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের ঠিক পরে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা হঠাৎ করে তাঁদের গ্রাম ও শহরে তীব্র ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের শব্দে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এ হামলা শুরু হয়।
ইসরায়েলের অব্যাহত নৃশংস হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে হারুফ গ্রামের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসিক ভবন থেকে।
.আপনাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব কী? আপনারা ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ। জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিটি সমস্যার সমাধান মানুষ হত্যা করে করা সম্ভব নয়।জেডি ভ্যান্স, ভাইস প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন লেবাননসহ সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধের চুক্তিতে পৌঁছায়, তার পর থেকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল তাদের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি চালিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
মার্চের শুরুতে ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিন লেবাননে হামলা চালাতে শুরু করে। জবাবে ইরান-সমর্থিত লেবাননের গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ শুরু করে। সশস্ত্র গোষ্ঠীটির দাবি, ইরানে একযোগে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি হামলার জবাবে তারা এ হামলা চালাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা প্রাণ হারান।
.এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ‘যুদ্ধবিরতি’ হয়। তা সত্ত্বেও ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যেতে থাকে। এখন যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পরও তা চলছেই।
গতকাল এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, হিজবুল্লাহর ‘বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ জবাবে বৃহস্পতিবার রাতভর লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চালানো হামলা হয়েছে।
.৬০ দিনের সময়সীমা গত বৃহস্পতিবার শুরু হলেও সুইজারল্যান্ডের আলোচনার নতুন কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।.
হিজবুল্লাহ জানায়, তারা লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। এর পরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, লেবাননে যুদ্ধ চলাকালে তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সহযোগী, উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেছেন, ‘পুরো লেবানন জ্বলবে।’
বর্বর মন্তব্য ও আচরণের জন্য সমালোচিত বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, পুরো বিশ্বের কাছে ইসরায়েলকে স্পষ্ট করে দিতে হবে, আমাদের সন্তানদের রক্ত ও নাগরিকদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিসর্জন দেওয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে ‘উন্মত্ত শক্তি দিয়ে আঘাত হানতে হবে, ধ্বংস করতে হবে, সন্ত্রাসকে গুঁড়িয়ে দিতে হবে।’
.যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের প্রথম দফায় লেবাননের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ‘সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে’ সম্মত হয়েছে। তা ছাড়া উভয় পক্ষ লেবাননের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সমঝোতা স্মারকের কোথাও ইসরায়েলের নাম উল্লেখ নেই। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ কারণে প্রথম দফাটি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি এবং এতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর (লেবাননের) কোনো কর্মকর্তার সই নেই। তাই লেবাননে যুদ্ধবিরতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বা ইরানকে হিজবুল্লাহর অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে কি না, তা পরিষ্কার নয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, তেহরান ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনকে আলাদা করে দেখে না’। তাঁর মতে, ইসরায়েল যেন চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব।
.এই চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শুধু সরকারপক্ষ নয়, বিরোধী রাজনীতিকেরাও এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন।
এ ছাড়া চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় ইসরায়েলকে সম্পৃক্ত করা হয়নি বলেও খবর এসেছে। এমনকি গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চুক্তিতে সই করার আগে নথিটি পর্যালোচনার সুযোগও ইসরায়েল পায়নি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
.ভবিষ্যতে কোনো এক সময় ইরান হয়তো লেবানন ইস্যুকে আলাদা করে দেখবে। কিন্তু সমঝোতা স্মারকে সইয়ের কালি শুকানোর আগেই তা সম্ভব নয়।আলী ভায়েজ, পরিচালক, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প
নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘লড়াই এখনো শেষ হয়নি’ এবং ‘ইসরায়েলের সামনে আরও চ্যালেঞ্জ রয়েছে’। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, লেবাননের দখল করা এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না।
নেতানিয়াহুর ভাষায়, ইসরায়েল নিজ দেশের উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনবে। আর এ জন্য লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ রাখা প্রয়োজন। নিরাপত্তার প্রয়োজন যত দিন থাকবে, তত দিন সেখান থেকে সেনা সরানো হবে না।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ গত সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, নেতানিয়াহু ও তিনি এমন একটি নীতি অনুসরণ করছেন, যার অধীনে ইসরায়েলি বাহিনী লেবানন, সিরিয়া ও গাজার নিরাপত্তা অঞ্চলে অনির্দিষ্টকাল অবস্থান করবে। তাঁর মতে, এর উদ্দেশ্য সীমান্ত ও ইসরায়েলি জনপদকে ‘জঙ্গি’ গোষ্ঠীগুলোর হুমকি থেকে রক্ষা করা।
এমন এক পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
.ফ্রান্সে সবে শেষ হওয়া জি–৭ সম্মেলনে ট্রাম্প লেবাননে নেতানিয়াহুর হামলার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অনেক দীর্ঘ হয়েছে এবং এতে অনেক বেশি মানুষ নিহত হচ্ছেন।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘কাউকে খুঁজছেন বলে প্রতিবার একটি আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দিতে হবে না। কারণ, ওই ভবনগুলোতে অনেক মানুষ থাকে, আর তারা সবাই হিজবুল্লাহ নয়।’
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বৃহস্পতিবার চুক্তির বিরোধিতা করা ইসরায়েলি মন্ত্রীদের সমালোচনা করেছেন। ইসরায়েলি নেতাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব কী? আপনারা ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ। জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিটি সমস্যার সমাধান মানুষ হত্যা করে করা সম্ভব নয়।’
.ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজ আল–জাজিরাকে বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।
আলী ভায়েজের ভাষ্যমতে, ‘যদি তিনি চান, চুক্তিটি টিকে থাকুক, তাহলে শুধু নেতানিয়াহুকে তিরস্কার করলেই হবে না; বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খাটিয়ে লেবাননের যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করতে হবে।’
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, তেহরান যেমনটি বলছে, সেই মতে ট্রাম্প যদি নেতানিয়াহুকে নিয়ন্ত্রণে আনতে অনিচ্ছুক বা অক্ষম হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির বাস্তব মূল্য থাকবে না।
ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির ভিজিটিং ফেলো তাহানি মুস্তাফা বলেন, সমঝোতা স্মারকটি ইসরায়েলকে সংযত আচরণে বাধ্য করার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্কে টানাপোড়েন এবং নেতানিয়াহুর ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
.তাহানি মুস্তাফার মতে, ইসরায়েল ইচ্ছা করলে এই শান্তিপ্রক্রিয়াকে ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ইসরায়েল অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন পথে হেঁটেছে।
পরবর্তী আলোচনা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় ইসরায়েলের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করা উল্লেখ করে তাহানি মুস্তাফা বলেন, কিন্তু ওয়াশিংটন এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখায়নি।
এ অবস্থায় শান্তি আলোচনা সচল রাখার সব দায়ভার অনেকটা ইরানের ওপর এসে পড়েছে। এর অর্থ অনেকটা এই—লেবাননে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকলেও ইরানকে তা করতে হবে।
লেবাননে হত্যাকাণ্ড চলতে থাকলে আলোচনাপ্রক্রিয়া দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আলী ভায়েজ বলেন, ভবিষ্যতে কোনো এক সময় ইরান হয়তো লেবানন ইস্যুকে আলাদা করে দেখবে। কিন্তু সমঝোতা স্মারকে সইয়ের কালি শুকানোর আগেই তা সম্ভব নয়।






