নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় এক সভায় বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অপমানিত করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) এ ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার জড়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। আলাউদ্দিন নামে যুবদলের কর্মী পরিচয়কারী এক ব্যক্তি ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ। আলাউদ্দিন হাজিনগর ইউনিয়নের মাকলাহাট গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার তাৎক্ষণিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে হাজিনগর ইউপির উন্মুক্ত বাজেট সভায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। বক্তব্যের শেষে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। তৎক্ষণাত্ ভুলবশত স্লোগান উচ্চারণ করেছেন বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় সভায় উপস্থিত আলাউদ্দিন নিজেকে যুবদলের কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে উত্তেজনা ছড়ান। পরে তিনি ও সঙ্গীরা মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অসভ্য আচরণ করেন এবং মাইকে সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এখন এই স্লোগান দেওয়া যে কারও জন্য বিপজ্জনক। গতকাল সভায় মুখ ফসকে জয় বাংলা বলার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে ভুল স্বীকার করি। এরপরও সবার সামনে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।’

অভিযোগ নিয়ে আলাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নিজেকে যুবদলের কর্মী বলে দাবি করেন। যদিও যুবদলের কোনো পদে থাকার প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘মিজানুর রহমান বক্তব্যের একপর্যায়ে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দেন। সঙ্গে সঙ্গে আমিসহ কয়েকজন প্রতিবাদ করি। সবাই যখন উত্তেজিত হয়ে যায়, তখন বিষয়টি অন্যভাবে চলে যায়। পরে মিজানুর রহমান মাইকে সবার কাছে ক্ষমা চান। এখানে আমাকে একাই দায়ী করা হচ্ছে।’

হাজিনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ যোগাযোগ করলে বলেন, আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপি কিংবা যুবদল নেতা দাবি করলেও বাস্তবে তাঁর কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। তিনি রাজনৈতিক সুবিধা নিতে বিএনপির নাম ব্যবহার করেছেন। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নওগাঁ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে “জয় বাংলা” স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে হেনস্তা করা দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরাও “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দিয়েছি। যদিও পরবর্তী সময়ে এই স্লোগানের অপব্যবহার করে বিতর্কিত করে ফেলা হয়েছে।’