রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত শাহ আলী মাজারও এখন হামলার শিকার হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এই মাজারে লাঠিসোঁটা হাতে হামলাকারীরা পীরের ভক্তদের পিটিয়ে বের করে দিয়েছে।
এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মাজার জিয়ারতকারী ও স্থানীয়রা হামলার জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের দায়ী করছেন। পুলিশও একই অভিযোগ পেয়েছে। তবে জামায়াত দলের কারও জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে মাজারে হামলার ধারাবাহিকতায় এ ঘটনা শাহ আলীর ভক্তদের আতঙ্কিত করেছে।
মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের কয়েক শতাব্দী প্রাচীন শাহ আলী বোগদাদির মাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে জলসা হয়। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তরা এখানে আসেন। গতকাল রাতে জলসা চলাকালে লাঠিসোঁটা হাতে কিছু লোক হঠাৎ এসে জিয়ারতকারী ও অনুসারীদের মারধর শুরু করে, বলছেন স্থানীয়রা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, লাঠি হাতে কয়েকজন মাজারে আগত লোকজনকে পেটাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানান, মাজারের পূর্ব পাশের খালি জায়গায় বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্তরা মাদুর ও পলিথিন বিছিয়ে বসেছিলেন। সেখানে হকাররাও পণ্যের পসরা সাজিয়েছিলেন। রাত ১টার দিকে মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক পরা লাঠিধারী একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। ভক্তরা আতঙ্কে ছোটাছুটি করেন। হামলাকারীরা তাদের পিটিয়ে বের করে দেয়। এতে কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার ‘শেষ দিকে’ সেখানে গিয়েছিলেন বলে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “রওজার পূর্ব পাশে সেই জায়গায় বাইরে থেকে আসা কিছু নারী ও পুরুষ মাদুর বিছিয়ে বসেছিলেন। শোনা যাচ্ছে, সেখানে মাদক সেবনের আসর বসেছিল। তবে শুক্রবারে জুমার নামাজ যে জায়গাটায় হয়, সেখানে বসে কেউ গাঁজা খান না।”
হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ‘জামায়াত-শিবির’–এর বলে শোনা গেছে, জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
আজ শুক্রবার যোগাযোগ করায় পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, জামায়াত-শিবিরের একটি অংশ হামলা চালিয়েছে।
শাহ আলীর মাজার অবস্থিত এলাকা ঢাকা–১৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বিষয়টি নিয়ে আজ যোগাযোগ করায় জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির সেলিম উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, জামায়াত-শিবিরের লোকদের হামলা করার কোনো কারণ নেই। তাঁরা হামলা করেননি।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, কারা হামলা চালিয়েছে, তা তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলাও হয়নি।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয় বলে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলা ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।






