বর্তমানে নাহিদ রানা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা। যাঁর সঙ্গেই কথা বলা হোক, প্রশ্ন একই—‘নাহিদ রানাকে কেমন লাগছে?’ বিভিন্ন মানুষ ভিন্নভাবে উত্তর দেন। বেশিরভাগই তার সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু মুশফিকুর রহিমের দৃষ্টিভঙ্গি একটু আলাদা।
সবাই তার গতি, বাউন্স এবং নিখুঁত লাইন-লেংথে মুগ্ধ। তবে মুশফিককে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে নাহিদের নিজেকে ক্রমাগত উন্নত করার মানসিকতা।
২০২১ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নাহিদের অভিষেক হয় মুশফিকের দল রাজশাহীর হয়ে। গত দুই মৌসুম জাতীয় ক্রিকেট লিগে মুশফিক সিলেটের হয়ে খেলছেন। এর আগে রাজশাহীতে সতীর্থ হিসেবে কাছাকাছি দেখার সুযোগ পেয়েছেন বলেই নাহিদের বর্তমান পারফরম্যান্সে তিনি খুব একটা অবাক নন।
কেন এই পেসার সবার থেকে আলাদা, তা মুশফিকের কথায় স্পষ্ট: ‘আমি জানতাম, ও ভবিষ্যতে জাতীয় দলে খেলবে। তখন থেকেই শেখার আগ্রহ আর নিজেকে উন্নত করার মানসিকতা ওর মধ্যে দেখেছি, যা সাধারণত তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে কম থাকে। অনেক তরুণই হয়তো নিজে থেকে কিছু জানতে চাইতে সংকোচ বোধ করে। কিন্তু ওকে আমি দেখেছি যে কখনো সংকোচ করত না।’
সিনিয়রদের কাছ থেকে শেখার প্রবল আগ্রহ ছিল নাহিদের, মুশফিক যোগ করেন, ‘সব সময় তাদের (সিনিয়রদের) কাছে যায়, ভাই আমি আরেকটু কী করলে ভালো হয় বা এটা এখন করছি; লাইফস্টাইলটা কেমন (হওয়া দরকার)। এটা দেখে আমি খুব অবাক ও খুশি হয়েছি তখন। ওর যে গ্রোথটা হয়েছে, এটা দেখে আমি কখনোই অবাক হইনি। কারণ, তখনই আমি বুঝতে পেরেছি ওর ওই ইচ্ছাটা আছে। এখনো এত ভালো করার পরও নির্দিষ্ট ব্যাটসম্যানকে নিয়ে যেভাবে পরিকল্পনা করে বা ওর ওয়ার্ক এথিকস নিয়ে, ওর খাওয়াদাওয়া নিয়ে—এটা খুব ভালো দিক।’
নাহিদ একা নন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পুরো পেস আক্রমণ আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। একসময় স্পিননির্ভর বাংলাদেশ এখন ঘরের মাঠেও পেসারদের হাতে ম্যাচ জয় করছে। মিরপুর টেস্টে প্রথমবার চতুর্থ ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা, সেখানে তাসকিন আহমেদও ভালো করেছেন। গত কয়েক বছরে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতির অন্যতম কারণ এই বোলিং ইউনিট।
মুশফিক এ নিয়ে বলেছেন, ‘টেস্ট আমাদের বোলিং বিভাগটার ২০ উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা আগের চাইতে এখন অনেক ভালো, যেকোনো কন্ডিশনেই। স্পিনাররা তো বরাবরই আমাদের ভালো ছিল। যখন আপনার বোলিং বিভাগে এই অপশনটা থাকবে, তখন অবশ্যই আমরা ব্যাটসম্যানরা যদি ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারি, যেটা কিনা গত তিন–চার বছর ধরে হচ্ছে।’






