বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেস এক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের একটি পরিত্যক্ত অংশ প্রচণ্ড গতিতে চাঁদের দিকে এগিয়ে আসছে। প্রায় চার টন ওজনের এই অংশটি আগামী ৫ আগস্ট প্রায় ২ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার গতিতে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়তে পারে। তাঁদের ধারণা, এটি চাঁদের বিখ্যাত আইনস্টাইন ক্রেটারের ঠিক প্রান্তসীমায় পড়বে। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় চাঁদের কোনো ক্ষতি হবে না।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, এটি ফ্যালকন ৯ রকেটের দ্বিতীয় স্তর, যা গত বছরের জানুয়ারিতে ব্লু ঘোস্ট মিশন ১ উৎক্ষেপণের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল। চাঁদ অভিযান শেষে এই অংশটি পৃথিবী ও চাঁদের মাঝখানে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে রয়ে যায়। পরবর্তীতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে এর কক্ষপথ বারবার বদলে যায়। প্রজেক্ট প্লুটোর তথ্য অনুসারে, এই মহাকর্ষীয় টানের ফলে শেষপর্যন্ত অংশটি চাঁদের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে।

আইনস্টাইন ক্রেটার চাঁদের দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান অংশের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। এ কারণে বিজ্ঞানীরা এই জায়গা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগ্রহী। আঘাতের সময় সেখানে সূর্যের আলো থাকবে বলে তাঁরা লুনার রিকনাসেন্স অরবিটার দিয়ে উন্নতমানের ছবি তোলার পরিকল্পনা করছেন। এর মাধ্যমে চাঁদের মাটির গভীরতা এবং সংঘর্ষে মাটি ছিটকে পড়ার ধরন নিয়ে গবেষণা চালাবেন। চাঁদে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের জন্য সাধারণত অত্যন্ত ব্যয়বহুল অভিযানের প্রয়োজন হয়।

এই ঘটনা মহাকাশযান ব্যবস্থাপনায় বড় প্রশ্ন তুলেছে। ফলে পৃথিবী-চাঁদের মধ্যবর্তী অঞ্চলে থাকা পরিত্যক্ত রকেট স্তর বা যন্ত্রাংশের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। সাধারণত স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ মেয়াদ শেষে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু চাঁদমুখী রকেটের যন্ত্রাংশগুলো প্রায়ই অনিশ্চিত কক্ষপথে ঘুরে বেড়ায়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া