চীন হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে চায়, কারণ দেশটি এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেছেন। তিনি আরও জানান, হরমুজ খোলা রাখার জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং তাঁকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে এই সাক্ষাৎকারটি ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পর নেওয়া হয়। ফক্স নিউজে এটি সম্প্রচার করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সি চিনপিং-এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন, “হলিউড যদি কখনো সি চিন পিংয়ের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কাউকে খুঁজতে যায়, তাহলে তাঁর মতো কাউকে পাওয়া যাবে না।” তিনি আরও বলেন, সি লম্বা, খুবই লম্বা। বিশেষ করে এই দেশের জন্য। কারণ, এখানে মানুষ সাধারণত কম উচ্চতার হয়।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ক্ষমতায় আসার সময় চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুবিধা নিচ্ছিল। তবে এখন সি চিনপিং-এর সঙ্গে তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে।
ট্রাম্প জানান, চীন ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুই নেতার বৈঠকে সি চিনপিং এই প্রতিশ্রুতি দেন। তবে চীন এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এছাড়া ট্রাম্প বলেন, চীন ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর আগে ট্রাম্পের সফরের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, খুব শিগগিরই চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল সংখ্যক বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দিতে পারে।
শন হ্যানিটির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতেও রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও আলাস্কা থেকে চীনের জাহাজে জ্বালানি পাঠানো শুরু করব।’ ট্রাম্পের দাবি, জ্বালানিই এখন চীনের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘তাদের সবচেয়ে বেশি দরকার জ্বালানি। আর আমাদের কাছে প্রচুর জ্বালানি আছে।’
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সি চিনপিং-এর ব্যক্তিত্ব নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত আন্তরিক। তবে তিনি পুরোপুরি কাজের মানুষ। এখানে কোনো চালাকি নেই। এটা ভালো দিক। সি অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাঁর জীবন চীনকে ঘিরেই বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। চীনের অর্থনীতিকে উন্মুক্ত করতে চান বলেও জানান তিনি। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আগের চেয়ে কমে গেছে বলেও মনে করেন ট্রাম্প।






