যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গত বসন্ত সেমিস্টারে আন্তর্জাতিক স্নাতক শিক্ষার্থীদের ভর্তি গড়ে ২০ শতাংশ কমেছে। একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে প্রস্তুত একটি রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। ১৪৯টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপের ভিত্তিতে এই ফলাফল পাওয়া গেছে, যা প্রকাশ করেছে ব্লুমবার্গ।
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি হ্রাস
জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ৬২ শতাংশ জানিয়েছে, তাদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়েই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি কমেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মনে করছে, বসন্ত সেমিস্টারের এই প্রবণতা আসন্ন শরৎ সেশনের জন্য সতর্কতার সংকেত।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত পূর্ণ টিউশন ফি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে। তাই এমন হ্রাস দীর্ঘমেয়াদে বাজেট সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব
প্রতিবেদনে অংশ নেওয়া ৮৪ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন ও ভিসা নীতির পরিবর্তনই এই পতনের মূল কারণ। এতে শিক্ষার্থীদের আবেদন ও আগ্রহ কমে গেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করছে।
আগে বিভিন্ন সময় অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযান, শিক্ষার্থীদের আটক এবং ভিসা স্ট্যাটাস বাতিলের ঘটনাগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে আইনি চ্যালেঞ্জের পর সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাহার হলেও এর প্রভাব আবেদনের প্রবণতায় রয়ে গেছে।
ভিসা জারির বড় ধাক্কা
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত গ্রীষ্মে স্টুডেন্ট ভিসা জারি ৩৬ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া স্থগিত এবং নতুন যাচাই-বাছাই নীতির কারণে আবেদন প্রক্রিয়া ধীরগতি হয়েছে।
২০২৫ সালের বসন্তে সামগ্রিক আন্তর্জাতিক ভর্তি আগের বছরের তুলনায় ১.৪ শতাংশ কমেছিল, যা পরবর্তী কঠোর নীতিগত পরিবর্তনের আগে জমা আবেদনের ফলাফল ছিল।
অন্য দেশের পরিস্থিতি
একই সময়ে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতেও আন্তর্জাতিক ভর্তি কিছুটা কমেছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েছে, যা বৈশ্বিক শিক্ষা বাজারে গন্তব্যের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নীতি পরিবর্তন ও ভিসা অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উপর নির্ভরতা কমতে পারে এবং অন্য দেশগুলো এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।






