যুক্তরাষ্ট্রে চীন সরকারের পক্ষে গোপন থানা পরিচালনার অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এটি দেশটিতে এ ধরনের প্রথম গোপন কেন্দ্রের সন্ধান। নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতের জুরি জানিয়েছে, ৬৪ বছর বয়সী লু জিয়ানওয়াং ২০২২ সালের শুরুতে ম্যানহাটানের চায়নাটাউনে এই কেন্দ্রটি চালু করেন। তিনি চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের (এমপিএস) হয়ে কাজ করছিলেন।

চীনের অবৈধ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা এবং তথ্য-প্রমাণ ধ্বংস করে বিচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত। একই সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার এক মেয়রও পদত্যাগ করেছেন, যাঁর বিরুদ্ধেও চীনের পক্ষে অবৈধ কাজের অভিযোগ রয়েছে। এক সপ্তাহের বিচারের পর এই রায় ঘোষণা করা হয়।

প্রসিকিউটররা জানান, ‘হ্যারি লু’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তির ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মামলার অন্য আসামি চেন জিন পিং গত ডিসেম্বরে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। তিনিও চীনের পক্ষে ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন এবং এখন তাঁর সাজা ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এফবিআইয়ের সহকারী পরিচালক জেমস সি বার্নাকল জুনিয়র বলেন, চীন সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য লু জিয়ানওয়াং নিউইয়র্কের এই কেন্দ্র ব্যবহার করে ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্য করে ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, বিশ্বের ৫৩টি দেশে চীনের এমন অন্তত ১০০টি কেন্দ্র রয়েছে। বেইজিং এগুলো দিয়ে প্রবাসীদের ওপর নজরদারি চালায় এবং গণতন্ত্রপন্থী কর্মীদের শনাক্ত করে।

চীন সরকার এগুলোকে থানা বলে মানতে অস্বীকার করে। তাদের দাবি, এগুলো ‘সার্ভিস স্টেশন’ যা প্রবাসীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নসহ বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। নিউইয়র্কের একটি রেস্টুরেন্টের উপরের তলায় ছিল এই কেন্দ্র। ২০২২ সালের শেষ দিকে এফবিআই তদন্ত শুরু করলে এটি বন্ধ করা হয়। প্রসিকিউটররা জানান, তদন্তের খবর পেয়ে লু এবং চেন চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আদান-প্রদান করা খুদে বার্তা মুছে ফেলেছিলেন।