নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এসএসসি পরীক্ষার ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ে পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে ৫৪ জন শিক্ষার্থী ভুক্তভোগী হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার শম্ভুপুরা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ৪০১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এতে ৫৪ জন পরীক্ষার্থী ফল নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরীক্ষাকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আতাদী উচ্চবিদ্যালয়, জাঙ্গালিয়া উচ্চবিদ্যালয় ও কবি নজরুল উচ্চবিদ্যালয়ের মোট ২৫৪ জন শিক্ষার্থী ওই কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪০১ নম্বর কক্ষে থাকা ৫৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র দেওয়ার কথা ছিল। তবে তাদের হাতে ২০২৫ সালের সিলেবাসভিত্তিক প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত পাঠ্যসূচির বাইরে থাকা প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানাজানি হলে পরীক্ষাকেন্দ্র এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা দ্রুত সমাধান ও ন্যায্য মূল্যায়নের দাবি জানান।

শম্ভুপুরা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান মৃধা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘সৃজনশীলে সঠিকভাবে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা; কিন্তু এমসিকিউ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ভুলবশত ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি আমরা জানতে পারি। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ড, ইউএনও মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, হল সুপারের ভুলের কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

আড়াইহাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হক বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিষয়টি জানতে পারি। ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের ভুল করে ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বাসায় উত্তর মেলাতে গিয়ে বিষয়টি ধরতে পারে। ঢাকা বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। একটি শিক্ষার্থীর জীবন থেকে একটি বছর চলে যাবে—এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর। পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বর লিখে বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।’ ইউএনও আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে যেসব প্রশ্ন সিলেবাসের সঙ্গে মিল আছে, সেগুলোর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব, হল সুপার, দুজন কক্ষ পরিদর্শক ও ট্যাগ অফিসারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ২০২৫ সালের সিলেবাসের সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে ১৭৭ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরীক্ষা গ্রহণের দেড় ঘণ্টা পর বিষয়টি জানাজানি হলে নতুন প্রশ্নপত্রে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ওই ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ ১১ শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।