টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক মাসের শিশুকে নিয়মিত টিকার বদলে জলাতঙ্কের দুই ডোজ টিকা দেওয়ার অবহেলাজনিত ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করতে হাইকোর্ট তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির অবিলম্বে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার একটি রিটের প্রাথমিক শুনানিতে রুলসহ এই আদেশ প্রদান করেন। রুলে ভুল টিকার জন্য স্বাস্থ্য জটিলতা নির্ণয়সহ শিশুটির যথাযথ চিকিৎসার জন্য তার পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জনসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে ‘এক মাসের শিশুকে ভুলে দেওয়া হলো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন—মুহূর্তেই নিস্তেজ’ শিরোনামে গতকাল একটি সংবাদমাধ্যমের অনলাইন সংস্করণে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে রিট দায়ের করা হয়। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজ বিন ইউসুফ।
পরে আইনজীবী হুমায়ন কবির মুক্তকণ্ঠকে বলেন, শিশুটিকে ভুল টিকা দেওয়ার ওই ঘটনায় সরকারি স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে স্বাস্থ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তদন্ত প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে হলফনামা আকারে আদালতে দাখিল করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক মাস বয়সী শিশুকে টিকা দিতে গেলে ভুলে শিশুটিকে জলাতঙ্কের (র্যাবিস) টিকা দিয়ে দেওয়া হয়। এর কিছু সময় পর ফাহিতা নামের ওই শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের সদস্যরা ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে ভুলে এই টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম ওই শিশুকে এই টিকা দেন। টিকা দেওয়ার পর শিশুটি ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ভুল টিকা দেওয়ার পর এর প্রতিবাদ করলে তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। ভুক্তভোগী শিশু ফাহিতা উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের মৌ খাতুন ও মো. ফারুকের মেয়ে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।






