জাপানে মধ্যরাতের পরও খোলা থাকা ক্যাফের সংখ্যা বাড়ছে। এগুলোকে ‘নাইটটাইম ক্রাইং ক্যাফে’ বলা হয়। এসব ক্যাফে রাতের অন্ধকারে একা শিশুর কান্না সামলাতে হিমশিম খাওয়া বাবা-মায়েদের জন্য আশ্রয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে মায়েরা এই সময়ে নিঃসঙ্গত্বের শিকার হন, এবং এই ক্যাফেরা তাদের জন্য এক অভাবনীয় স্থান।
‘নাইটটাইম ক্রাইং ক্যাফে’ ধারণাটি আসলে নতুন নয়। প্রায় এক দশক আগে একটি অনলাইন কমিকে এর সঙ্গে পাঠকরা প্রথম পরিচিত হন এবং তা বিপুল সাড়া ফেলেছিল।
এখন সেই ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছোট কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগে এ ধরনের ক্যাফে বাস্তবে গড়ে উঠছে। দেশজুড়ে এগুলো দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
এই আইডিয়ার উদ্ভাবক বলেন, বাস্তবে এমন কিছু করা সম্ভব কিনা, তা নিয়ে তাঁর মনে প্রথমে সন্দেহ ছিল। কিন্তু এখন মানুষের উদ্যোগ দেখে তিনি উৎসাহিত।
জাপানের উত্তরাঞ্চলে হোক্কাইদোর মেমুরো শহরে জানুয়ারির এক রাতে রেলস্টেশনের কাছে এক ক্যাফে থেকে ক্ষীণ আলো দেখা যায়। তখন রাত ৯টা অতিক্রান্ত এবং রোববার হওয়ায় সাধারণত দোকান বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু দোকান খোলা ছিল এবং ভিতরে আরামের পোশাকে এক মা তাঁর শিশুকে শান্ত করে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে এই দোকান প্রতি রোববার রাত ৯টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়। এ সময় দোকান কর্তৃপক্ষ রাতে শিশুর কান্না সামলাতে কষ্ট পাওয়া মায়েদের বিনামূল্যে স্বাগত জানায়।
দোকানের মালিক ২৮ বছর বয়সী মাদোকা নোজাওয়া। দোকানের নাম ‘ওয়াকো নো কোইয়া’, যার অর্থ ‘মা–বাবা ও শিশুর ঘর’।
৩৪ বছর বয়সী এক নারী নিজের এক ও ছয় বছর বয়সী মেয়েদের নিয়ে সেখানে এসেছেন। তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে এলে কারও না কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাই, মানসিকভাবে একটু বিশ্রাম মেলে।’






