সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আমদানিতে নামমাত্র শুল্ক এবং পাঁচ বছরের কর অবকাশ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে সরকার ভেবে দেখছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ আজ এ কথা জানান।
তিনি আরও বলেন, আগামী জুন মাসের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ খাতের জন্য বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা ঘোষণা করবে সরকার। এছাড়া রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরের মতো এলাকার বাড়ির ছাদগুলো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে ছেড়ে দিলে কেবল এই দুই এলাকা থেকেই এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এসব কথা বলেন। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ শিল্পনগরে (এনএসইজেড) সোনাগাজী ১৩০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বেস) পিপিপি প্রকল্প নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে এই মতবিনিময় কর্মশালা আয়োজন করে বেজা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘ব্যবসায়ী হিসেবে বুঝি, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করতে কোন ধরনের সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের পোশাক খাতের সাফল্যের মূলে ছিল ১৯৭৯ সালে দেওয়া ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা। সৌরবিদ্যুৎ খাতেও তেমন পরিবর্তন আনতে চাই।’
যেসব উপকরণে ছাড়
সোলার ফ্রেম, ফটোকল ও ব্যাটারি—প্রাথমিকভাবে এই তিনটি জিনিসের শুল্ক-কর কমানো নিয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, রাজস্বের জন্য আগে বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমদানিতে ন্যূনতম শুল্ক-কর এবং পাঁচ বছরের জন্য কর অবকাশ দেওয়া হলে উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হবেন। এরপর পাঁচ বছর পার হলে সরকার স্বাভাবিকভাবেই কর পাবে। এই বিষয়টি ভেবে দেখছে সরকার।
এ সময় পাকিস্তানের উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, সেখানে সরকার সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম আমদানি করে বিনিয়োগকারীদের (প্রণোদনাসহ) দিয়েছে, এই মডেল সফল হয়েছে। বাংলাদেশেও সরকার সরঞ্জাম আমদানি করে দিতে পারে অথবা বেসরকারি খাতকে শূন্য শুল্কে আমদানির সুযোগ করে দিতে পারে।
বিদ্যুৎ খাতে জাতীয়করণের ফলে ব্যবস্থাপনা ও আদায় ব্যবস্থায় যে স্থবিরতা এসেছে, তা দূর করতে বেসরকারি খাতের ভূমিকার ওপর জোর দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সরকার বিনিয়োগ করবে না, সরকার কেবল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে। বিনিয়োগ আসবে বেসরকারি খাত থেকে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথযাত্রায় বেসরকারি খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ কাজে বেসরকারি খাতের পুঁজি, প্রযুক্তি, বাস্তবায়ন ক্ষমতা ও পরিচালনার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্পষ্ট নীতিমালা, ব্যাংকের জন্য নথিপত্র, অনুমোদনপ্রক্রিয়া ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারকে সঠিক ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বেজা, বিদ্যুৎ বিভাগ, ইউএনডিপি ও এডিবির সহযোগিতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এই প্রকল্পের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য।
এই প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো
প্রথমত, বেসরকারি খাতের অন্যতম বড় বাধা জমির সংকট মোকাবিলায় সরকারি জমি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ফলে বিনিয়োগ বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।
দ্বিতীয়ত, দেশে এই প্রথম ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) যুক্ত হওয়ায় তা বিদ্যুৎ সরবরাহ ও গ্রিড সমন্বয়ের পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
তৃতীয়ত, সরকারের অব্যবহৃত জমিতে বেসরকারি বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই প্রকল্প আদর্শ উদাহরণ বা ‘কেস স্টাডি’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।






