ইরান যুদ্ধ নিয়ে শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় আটকে গেছে, যার ফলে আবার যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সময়ে আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনে পৌঁছেছেন। সফরের মূল ফোকাস বাণিজ্য বিষয়ক হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনাও গুরুত্ব পাবে।

বুধবার বেইজিংয়ে পৌঁছানো ট্রাম্পকে লালগালিচায় বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে ছিলেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। এর আগে তার সর্বশেষ চীন সফর হয়েছিল প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে। বিমানবন্দর থেকে রওনা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরাই দুই পরাশক্তি। সামরিক শক্তির দিক থেকে আমরাই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ।’ আগামীকাল বৃহস্পতিবার ও পরদিন শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক নির্ধারিত।

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির চেষ্টা এক মাসেরও বেশি চললেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কোনো সমঝোতা হয়নি, বর্তমানে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প কয়েকদিন ধরে ইঙ্গিত দিচ্ছেন, চুক্তি না হলে ইরানে নতুন হামলা শুরুর নির্দেশ দিতে পারেন। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার দ্রুত জবাব দেওয়ার জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

চীনের ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে, এবং ইরান থেকে চীন সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ থাকায় চীনসহ অন্য দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত, তাই তারাও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অবসান চায় বলে ধারণা। জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য চীনের পাশাপাশি রাশিয়াও তেহরানের কৌশলগত মিত্র। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে তেহরান চীন ও রাশিয়ার মতো স্থায়ী সদস্যদের নিশ্চয়তা চাইবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চীন সফরের আগে গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান বিষয়ে আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে হোক বা অন্য কোনোভাবে, আমরাই এই যুদ্ধে জয়ী হব।’ এটি বলেন ইরান সংকটে সি চিন পিংয়ের সাহায্য দরকার কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প সির সঙ্গে বৈঠকে ইরান বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তুলবেন এবং বেইজিংকে উৎসাহিত করবেন যাতে তেহরানকে শান্তিচুক্তিতে রাজি করান।

ওয়াশিংটনভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের ন্যাশনাল সিকিউরিটি রিফর্ম প্রোগ্রামের পরিচালক ড্যান গ্রেজিয়ার আল–জাজিরাকে বলেন, ‘ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে এবং সমঝোতায় সম্মত হতে চাপ দিতে অন্তত সি চিন পিংকে পাশে পেতে চাইবেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’