বাংলাদেশ থেকে হজে যাওয়া অধিকাংশ হাজি ৫০-৬০ বছর বয়সী হন। এ বয়সে শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে। হজ যদিও পরিশ্রমসাধ্য ইবাদত, আল্লাহ তাআলা তা সহজ করে দেন। কিন্তু মক্কা-মদিনার তীব্র গরম (গড়ে ২৮-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং দীর্ঘ পথচলার কারণে অনেক হাজি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

হজের সময় সাধারণত ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি, পায়ের তালু ফেটে যাওয়া, ফোসকা পড়া, পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এসব থেকে বাঁচতে কয়েকটি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।

তৃষ্ণা লাগার আগেই পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩.৫ থেকে ৫ লিটার পানি পান করুন। জমজমের পানি পান করার সময় অত্যধিক ঠান্ডা পানি এড়িয়ে সাধারণ তাপমাত্রার (Not Cold) পানি পান করাই ভালো। প্রতি এক-দুই ঘণ্টায় দুটি খেজুরের সঙ্গে এক চুমুক জমজমের পানি পান করলে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য থাকে এবং পানিশূন্যতা দ্রুত কাটে।

ইহরাম বাঁধা, আরাফাতের ময়দান বা জামারাতে পাথর নিক্ষেপের সময় শারীরিক পরিশ্রম বাড়ে। তখন প্রতি ৩০-৪৫ মিনিট পরপর অন্তত ১৫০-২০০ মিলিলিটার পানি পান করুন।

প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হলে, মাথা ঘুরলে বা মুখ শুকিয়ে গেলে বুঝবেন পানিশূন্যতা হয়েছে। তা হলে তাড়াতাড়ি ছায়ায় বিশ্রাম নিন এবং ধীরে ধীরে খাবার স্যালাইন বা লবণ-চিনির মিশ্রণ পান করুন।

বাইরে বের হলে সর্বদা ছাতা সঙ্গে নিন এবং ছায়াযুক্ত পথে হাঁটার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত রোদে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। খাবারে দেশি ও তাজা জিনিস বেছে নিন। বাসি, তৈলাক্ত বা হজমে খারাপ লাগা খাবার এড়িয়ে চলুন।

মক্কা-মদিনায় বাংলাদেশি হোটেল রয়েছে। প্যাকেজে খাবার থাকলে তা বাসি কি না যাচাই করুন। রসালো ফল, তাজা জুস, দুধ ও লাবাং বেশি পান করুন।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার সময় আপনার নিয়মিত সেবন করা ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে সঙ্গে নিন। এছাড়া সাধারণ জ্বর, ব্যথা বা সর্দি-কাশির ওষুধও সঙ্গে রাখুন।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার সময় নিয়মিত ওষুধ (উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগের) যথেষ্ট নিন। সাধারণ জ্বর, ব্যথা বা সর্দি-কাশির ওষুধও রাখুন।

মক্কায় বাংলাদেশ সরকারের হজ মিশনের অধীনে মেডিকেল টিম ২৪ ঘণ্টা সেবা দেয়। মক্কায় ইব্রাহিম খলিল রোডের শেষ প্রান্তে রিংরোড পার হয়ে ‘জারহাম’ ডিস্ট্রিক্টে বাংলাদেশ মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়া যায়। (যোগাযোগ: +৯৬৬৮০০১১৬০০২৯)। মদিনার আল মাসানি এলাকায়ও বাংলাদেশ হজ মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। (যোগাযোগ: +৯৬৬১৪৮৬৬৭২৩০)।

শুষ্ক আবহাওয়ায় পা ফেটে যাওয়া বা ফোসকা রোধে বাংলাদেশ থেকে ভ্যাসলিন নিয়ে যান এবং নিয়মিত লাগান। খালি পায়ে হাঁটবেন না। নামাজের সময় রোদে না দাঁড়িয়ে ছায়ায় দাঁড়ান। জোহর-আসরে জায়নামাজ ব্যবহার করুন এবং আরামদায়ক রাবার বা স্পঞ্জের স্যান্ডেল পরুন।

আপনার মূল লক্ষ্য হলো হজের ফরজ কাজগুলো পালন করা। শুরুতে অতিরিক্ত নফল ওমরাহ বা তাওয়াফ করে শরীরকে ক্লান্ত করবেন না। মূল হজের জন্য শক্তি জমিয়ে রাখা শ্রেয়।

মূল লক্ষ্য হজের ফরজ কাজ পালন। শুরুতে অতিরিক্ত নফল ওমরাহ বা তাওয়াফ করে শরীর ক্লান্ত করবেন না। মূল হজের জন্য শক্তি সঞ্চয় করুন। হজের প্রধান কাজ শেষে নফল ইবাদতের সময় পাওয়া যাবে। সুস্থ থেকে হজের প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে পালনই অগ্রাধিকার।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে সুস্থভাবে হজের তৌফিক দিন। আমিন।

  • মূসা মুহাম্মাদ হোজায়ফা: সহযোগী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি।