শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক সিমেন্ট কোম্পানি লাফার্জহোলসিমের চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) মুনাফা কমে ১১২ কোটি টাকায় নেমেছে। গত বছরের একই সময়ে এটি ছিল ১৩৯ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির মুনাফা ২৭ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

কোম্পানির আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়। সভা শেষে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, মুনাফা কমার প্রধান কারণ বিক্রির হ্রাস। গত বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানি ৮৫১ কোটি টাকার ব্যবসা করলেও চলতি বছরে এটি নেমে ৮০৪ কোটি টাকায়। সুতরাং এক বছরে বিক্রি ৪৭ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ কমেছে। এছাড়া উৎপাদন খরচও বেড়েছে। গত বছর ৮৫১ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে উৎপাদন খরচ ছিল ৬০৬ কোটি টাকা, কিন্তু এবার ৮০৪ কোটি টাকার ব্যবসায় খরচ হয়েছে ৬১৭ কোটি টাকা। ফলে পরিচালনা মুনাফা গত বছরের তুলনায় ৫৯ কোটি টাকা কমে ১৮৭ কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ হয়।

প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিচালনা মুনাফা কমলেও সুদ বাবদ আয় বেড়েছে এবং ব্যাংকঋণের সুদ ব্যয় কমেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সুদ থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা, যা গত বছরে ছিল প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। এক বছরে এ আয় ১০ কোটি টাকার বেশি বেড়েছে। একই সময়ে ব্যাংক সুদ ব্যয় কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা। এবার এটি দেড় কোটি টাকা, যা গত বছর ছিল ১০ কোটি টাকার বেশি।

বিক্রি কমার কারণে লাফার্জহোলসিমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও ইকবাল চৌধুরী বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে এ বছরের শুরুতে কোম্পানির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। অর্থনৈতিক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বিক্রি বাড়তে নতুন পণ্য বাজারে এনেছি আমরা। এর মধ্যে হোলসিম কোস্টাল গার্ড এবং পাওয়ারক্রিট নামে নতুন দুটি বিশেষায়িত পণ্য বাজারে এসেছে। আশা করছি যার সুফল আগামী দিনগুলোতে পাওয়া যাবে।’

আজ মঙ্গলবার আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের দিন ঢাকার শেয়ারবাজারে লাফার্জহোলসিমের শেয়ারমূল্য অপরিবর্তিত ছিল। এদিন কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৫০ টাকা। মঙ্গলবার ঢাকার বাজারে প্রায় সোয়া এক লাখ শেয়ারের হাতবদল হয়েছে।