ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী এবং হামাসের শীর্ষ নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে ঐকমত্য পৌঁছেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা ‘নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ’ নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার জন্য ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ইইউর নিষেধাজ্ঞা বহুল প্রতিক্ষিত ছিল। এতদিন ইইউভুক্ত হাঙ্গেরির সদ্যবিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এ উদ্যোগ আটকে রেখেছিলেন। দেশটিতে ক্ষমতার পালাবদলে এখন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার। ফলে ইইউর নিষেধাজ্ঞার পথে আগের জটিলতা কেটে গেছে।
ইইউ তিনজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং চারটি বসতি সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। তাদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ঐকমত্যের পর ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বলেন, “অচলাবস্থা কাটিয়ে (নিষেধাজ্ঞা) বাস্তবায়নের এটাই উপযুক্ত সময়।”
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, “পশ্চিম তীরে চরমপন্থা ও সহিংস উপনিবেশ স্থাপন প্রক্রিয়ায় সমর্থনকারী প্রধান ইসরায়েলি সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে ইইউ।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে তিনি লেখেন, “অত্যন্ত গুরুতর ও অসহনীয় এসব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”
তবে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ইইউর এ উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “ইইউ কোনোরকমের ভিত্তি ছাড়াই শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে খেয়ালখুশি মতো এবং রাজনৈতিকভাবে ইসরায়েলি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।”
ইসরায়েলের কট্টরপন্থী নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ইইউকে ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ বলে কড়া সমালোচনা করেছেন।
জ্যঁ-নোয়েল বারো জানান, ইইউর নেতারা হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞায় একমত হয়েছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন। গাজায় জিম্মি হয় ২৪০ জন।
জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, “এ গুরুতর ও অসহনীয় কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”
হামাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইইউর বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক ভণ্ডামি ও বর্ণবাদের’ অভিযোগ তুলেছেন।






