মেটা ইনস্টাগ্রামের ডিএম অপশন থেকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। এই পরিবর্তনের ফলে এখন কোম্পানি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি, ভিডিও এবং ভয়েস নোটের তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারবে।
এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন হলো এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেখানে বার্তার বিষয়বস্তু শুধু প্রেরক ও প্রাপকই দেখতে পান। এমনকি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও মাঝখানে তথ্য পড়তে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষায় এই প্রযুক্তিকে কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
মেটার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রযুক্তি ও গোপনীয়তা জগতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গোপনীয়তা অধিকার সংরক্ষণকারী সংগঠনগুলো এটিকে ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল গোপনীয়তায় বড় ধাক্কা বলে মনে করছে। তাদের আশঙ্কা, এতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে। অন্যদিকে, শিশু সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো এটিকে ইতিবাচক বলে দেখছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিশু সুরক্ষা সংস্থা এনএসপিসিসির নীতিনির্ধারণ বিভাগের সহযোগী প্রধান রানি গোবিন্দরের মতে, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন থাকলে অনেক সময় শিশু নির্যাতন বা ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাঁর মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্ল্যাটফর্মগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।
গোপনীয়তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘বিগ ব্রাদার ওয়াচ’-এর অ্যাডভোকেসি প্রধান জ্যাক কুলসন বলেন, এ সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি খাতের উদ্বেগজনক প্রবণতার ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর দাবি, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়িয়ে দেবে এই পরিবর্তন।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এলিমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ম্যাথিউ হজসনের আশঙ্কা, ইনস্টাগ্রামে এনক্রিপশন সুবিধা বন্ধ হওয়ার ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণেও ব্যবহৃত হতে পারে। তবে মেটা একাধিকবার জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত বার্তা, ভয়েস নোট বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য বিজ্ঞাপন লক্ষ্য নির্ধারণ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয় না।
সূত্র: ডেইলি মেইল






