ভারতের তামিলনাড়ুতে চার দিন ধরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছিল ব্লকবাস্টার সিনেমার মতো। এর মধ্যে ‘থালাপতি’ সি জোসেফ বিজয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর প্রথম ভাষণেই তিনি স্পষ্ট করেছেন যে দক্ষিণের এই রাজ্যে ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র হবেন তিনিই।

শপথ গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে বিজয় বলেন, “আমি ছাড়া ক্ষমতার আর কোনো কেন্দ্র থাকবে না। আমিই হব ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নীতি নির্ধারণে নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এতে মনে হয়েছে, তামিলনাড়ুর মানুষকে তিনি আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন যে টিভিকে-নেতৃত্বাধীন সরকার জোটসঙ্গীদের চাপে নীতির ক্ষেত্রে নতি স্বীকার করবে না। নিজেকে ‘থাম্বি’ বা ছোট ভাই বলে পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারকে অস্থিতিশীল করার ‘অপকর্ম’ের পরিকল্পনা করা উচিত নয়।

বিজয় বলেন, “আমি কোনো অন্যায় করব না। আমার সঙ্গে থাকা কাউকেও অন্যায় করতে দেব না। কারও মনে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য থাকলে, এখনই তা (মন থেকে) মুছে ফেলুন।”

সরকার গঠনে ‘ম্যাজিক নম্বর’ ১১৮ বিধায়কের সমর্থন দিয়েছে ডিএমকের জোটসঙ্গীরা। তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন থালাপতি বিজয়। এছাড়া কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তিনি নিজের ‘ভাই’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “আমি কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে ও পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেতা আমার ভাই রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই কে সি ভেনুগোপাল, সেলভাপেরুন্থাগাই ও প্রাভিন চক্রবর্তীকে। সিপিএম নেতা পি শানমুগাম ও সু ভেঙ্কটেশন, ভিসিকে নেতা থোল তিরুমাভালাবন, রবিকুমার ও ভান্নিয়ারাসু এবং সিপিআই নেতা এম বীরাপান্ডিয়ানকেও আমার ধন্যবাদ।”

টিভিকে দলের সব কর্মী এবং অনলাইনে সমর্থন জুগিয়েছে এমন ‘ভার্চ্যুয়াল যোদ্ধাদের’ তিনি ধন্যবাদ দেন। নিজেকে ‘মামা’ বলে তামিলনাড়ুর মানুষের প্রতি বলেন, তিনি কোনো ফেরেশতা নন, সাধারণ মানুষ।

থালাপতি বিজয় বলেন, “আমরা যা করতে পারব না, তার কোনো প্রতিশ্রুতি দেব না। তবে আমার এখন আত্মবিশ্বাস আছে যে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা যেকোনো কিছুই করতে পারব। আমি আপনাদের সবাইকে আমাকে কিছুটা সময় দেওয়ার অনুরোধ করছি। আমি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার সবকিছু আমি পূরণ করব এবং সেগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাব। আমি নাগরিকদের একটি পয়সাও ছোঁব না।”

বিজয়ের সঙ্গে টিভিকে দলের আরও ৯ জন নেতা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন এআইএডিএমকে-র সাবেক নেতা কে এ সেনগোত্তাইয়ান। তিনি কয়েক দশক ধরে এমজিআর ও জয়ললিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। এছাড়া শপথ নিয়েছেন বিজয়ের বিশ্বস্ত কৌশলবিদ আধাভ অর্জুনা, বক্তৃতায় পারদর্শী রাজ মোহন, দন্তচিকিৎসক থেকে রাজনীতিবিদ টি কে প্রভু এবং সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী এস কীর্তনা।

কংগ্রেস, সিপিআই (এম), ভিসিকে ও আইইউএমএল-এর নেতারা পরে শপথ নিতে পারেন। দপ্তর বণ্টনের আলোচনা শেষ হলে তাঁদের শপথ হবে।