রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে এগোচ্ছে। তিনি নিজের এই মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, এই যুদ্ধে রাশিয়া বিজয়ী হবে।
গতকাল শনিবার মস্কোর রেড স্কয়ারে ভিক্টরি ডে বা বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে পুতিন ইউক্রেনে লক্ষ্য অর্জনের কথা জানিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিকে পরাজিত করার জাতীয় গৌরব স্মরণ করে তিনি বলেছিলেন, “জয় সব সময় আমাদেরই হয়েছে, আমাদেরই হবে।”
এর কয়েক ঘণ্টা পর ক্রেমলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, “আমার মনে হয়, বিষয়টি শেষের দিকে এগোচ্ছে।” এই কথা বলতে গিয়ে তিনি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের দিকেই ইঙ্গিত করেন। তবে যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
ক্রেমলিনে বক্তব্যের সময় পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের কারণ নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি ‘গ্লোবালিস্ট’ পশ্চিমা নেতাদের দোষারোপ করে বলেন, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ন্যাটো পূর্ব দিকে আর সম্প্রসারিত হবে না, কিন্তু পরে তাঁরা ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাব বলয়ে আনার চেষ্টা করেন।
চার বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে রুশ অভিযানের মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় উদযাপনে রাশিয়া প্রতি বছর ৯ মে বিজয় দিবস পালন করে। এই দিনে দেশটি ওই যুদ্ধে নিহত ২ কোটি ৭০ লাখ সোভিয়েত নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
মস্কোর সামরিক কুচকাওয়াজে সাধারণত আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রদর্শিত হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে সীমিত আকারে এই অনুষ্ঠান হয়েছে। প্রদর্শনীর পরিবর্তে ক্রেমলিনের দেয়ালের বিপরীতে বিশাল পর্দায় সামরিক সরঞ্জামের ভিডিও দেখানো হয়।
এই যুদ্ধ রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ককে ১৯৬২ সালের কিউবার মিসাইল সংকটের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে নিয়ে গেছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। পুতিন এই যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত বলেও উল্লেখ করেন।
ইউরোপের জন্য নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনায় নিজে প্রস্তুত বলেও জানান পুতিন। এ ক্ষেত্রে তিনি জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়েডারকে আলোচনার জন্য পছন্দ করছেন।
রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে এখন তিন দিনের যুদ্ধবিরতি চলছে। ৯ মে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি ১১ মে শেষ হবে। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। ক্রেমলিন বলেছে, এ যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।






