ভারতের তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় শপথগ্রহণের পর প্রথম ভাষণে নিজেকে ‘সাধারণ মানুষ’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাঁর বংশপরিচয় নিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, ‘আমি রাজপরিবার থেকে আসিনি।’ এ কারণেই জনগণ তাঁকে গ্রহণ করেছে।
৫১ বছর বয়সী চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়) স্পষ্টভাবে জানান, তিনি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে প্রতারিত করবেন না। তিনি ‘প্রকৃত, ধর্মনিরপেক্ষ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের’ নতুন যুগ গড়তে কাজ করার অঙ্গীকারও করেছেন। জনগণের প্রতি তাঁর অনুরোধ, তাঁর কাজের মূল্যায়নের জন্য যৌক্তিক সময় দেওয়া হোক।
তারকা অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশকারী থালাপতি বিজয় বলেন, ‘আমি ছাড়া ক্ষমতার অন্য কোনো কেন্দ্র থাকবে না। আমিই হব ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র।’ এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেন, জোট সরকার হলেও সরকার জোটসঙ্গীদের চাপে তাদের ইচ্ছামতো কাজ করবে না। ‘মামা বিজয়’ নামে পরিচিত এই নেতা জানান, সরকারের যেকোনো নীতির জন্য তিনিই জনগণের কাছে জবাবদিহি করবেন।
আজ স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে থালাপতি বিজয় শপথ গ্রহণ করেন। তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার তাঁকে শপথ পড়ান। নতুন সরকারের ৯ মন্ত্রীও শপথ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও এসেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, কেন্দ্র সরকার তামিলনাড়ুর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাজ করবে।
শপথের পরপরই রাজ্য সচিবালয়ে গিয়ে থালাপতি বিজয় সরকারি দায়িত্ব পালন শুরু করেন। সরকারি আদেশে সই করে আবাসিক গ্রাহকদের ২০০ ইউনিট করে বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ বাহিনী গঠনের আদেশও জারি করেন।
তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। এবারের নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে) ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে থালাপতি বিজয় নিজে দুটি আসনে লড়েন, ফলে দলের মোট বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। কয়েক দিনের নাটকীয়তার পর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসসহ কয়েকটি দলের সমর্থনে ১২০ আসন নিশ্চিত করে টিভিকে জোট সরকার গঠন করে। তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এটাই প্রথম জোট সরকার।






