ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে নাটকীয়তা কমেনি। থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগামের (টিভিকে) কংগ্রেস, স্থানীয় দল ভিসিকে এবং বামপন্থী দল সিপিআই ও সিপিএমের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করবে বলে ঘোষণা করেছিল। শুক্রবার বিকেলে এই দলগুলো টিভিকেকে সমর্থনও জানায়। কিন্তু রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকার সন্তুষ্ট হননি। তিনি বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাননি। তিনি বলেছেন, বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে শনিবার তাঁর শপথগ্রহণ হচ্ছে না।
গত সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে তামিল চলচ্চিত্রের নায়ক থেকে রাজনীতিতে আগমন করে চমক দেখানো থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে সবচেয়ে বেশি ১০৮টি আসন পায়। এর মধ্যে বিজয় নিজে দুটি আসনে লড়েছিলেন, ফলে দলের মোট বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। কিন্তু ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য দরকার ১১৮টি আসন।
এই পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুতে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে আধিপত্য বিস্তার করে চলা দুই দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকে নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে জোট গঠন করে সরকার গঠনের আলোচনা শুরু করে। কংগ্রেস আগেই টিভিকেকে সমর্থন জানিয়েছিল।
শুক্রবার দুপুরে সিপিআই, সিপিএম ও স্থানীয় দল ভিসিকে বিজয়ের সরকার গঠনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেয়। এই তিন দলই দুটি করে আসন জিতেছে। ফলে বিজয়ের পক্ষে ১১৮ জনের সমর্থন নিশ্চিত হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় রাজ্যপালের কাছে গেলে রাজেন্দ্র আর্লেকার ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দেন।
সরকার গঠনের অনুরোধ নিয়ে বিজয় এর আগে তিনবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু রাজ্যপাল প্রয়োজনীয় সমর্থনের চিঠি দেখতে চেয়েছিলেন। তিনি জানিয়ে দেন, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে নিশ্চিত না হলে কাউকে সরকার গঠনের সুযোগ দেবেন না। রাজ্যের রাজনীতিবিদদের অনেকের ধারণা, এ ক্ষেত্রে বিজেপি রাজ্যপালের ওপর প্রভাব খাটাচ্ছে।
টিভিকে নির্বাচনী প্রচারণায় ‘একলা চলো’ নীতি নিয়েও সরকার গঠনের গণিতে শেষমেশ জোটের পথ বেছে নিয়েছে। প্রথম বড় সমর্থন আসে কংগ্রেসের কাছ থেকে। ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে ৫টি আসন নিয়ে কংগ্রেস বিজয়কে সমর্থনের ঘোষণা দেয়। কংগ্রেসের শর্ত ছিল—বিজয় কখনোই ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’ বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে পারবেন না। এতে বিজয়ের সমর্থন বেড়ে ১১২-তে পৌঁছায়।
পরে শুক্রবার (৮ মে) রাতে সিপিআই এবং সিপিআই(এম) যৌথভাবে টিভিকেকে সমর্থনের ঘোষণা দেয়। বাম নেতাদের মতে, বিজেপির লক্ষ্য নস্যাৎ করতেই তারা বিজয়কে সমর্থন দিচ্ছেন। ভিডুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে)ও বিজয়ের পক্ষে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়।
এরপরও রাজ্যপাল বিজয়কে ফিরিয়ে দেওয়ায় সিপিআই নেতা ডি রাজা সমালোচনা করেছেন। রাজ্যপালের এই বিলম্বকে ‘সংসদীয় রীতিনীতির লঙ্ঘন’ বলেছেন তিনি।
বিকেলে এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) থেকে নির্বাচিত দুই বিধায়কের একজনের সমর্থন পাচ্ছেন বিজয়। এছাড়া স্থানীয় দল আম্মা মক্কল মুনেত্রা কাজাগাম থেকে নির্বাচিত একজন বিধায়কেরও সমর্থন তাঁর পক্ষে যাচ্ছে। কিন্তু বিজয় রাজ্যপালের কাছে যাওয়ার পর এই দুই দল থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে তারা থালাপতি বিজয়কে সমর্থন করছে না। তামিলনাড়ু বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১০ মে। তার আগে সরকার গঠিত না হলে রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা রয়েছে।






