আজকাল স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের বড় অংশ দখল করে ফেলেছে। সংযোগের নামে শুরু হলেও এখন এটি আসক্তির রূপ নিয়েছে, যা উৎপাদনশীলতা কমিয়ে মানসিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

ইসলামে সময়কে অত্যন্ত মূল্যবান আমানত মনে করা হয়। এই ডিজিটাল আসক্তি কাটিয়ে জীবনকে অর্থপূর্ণ করার জন্য ইসলামের আলোকে ১০টি সহজ নীতি:

১. উদ্দেশ্যহীন স্ক্রলিং এড়িয়ে চলুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অর্থহীনভাবে সময় কাটানো বড় অপচয়। কেয়ামতের দিন প্রতি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “কেয়ামতের দিন কোনো বান্দাই তার কদম সরাতে পারবে না, যতক্ষণ না তাকে তার জীবনকাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, সে তা কোন কাজে ব্যয় করেছে।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৭)

২. অকেজো কন্টেন্ট এড়িয়ে চলুন। ফেসবুক বা ইউটিউবে ইহকাল-পরকালের কোনো কাজে না-আসা কন্টেন্ট দেখা থেকে বিরত থাকুন। সফল মানুষ নিরর্থক কাজ এড়িয়ে চলেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, “একজন ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো নিরর্থক ও অনর্থক কাজ বর্জন করা।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৭)

৩. তথ্য যাচাই করে শেয়ার করুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব বা সংবাদ ছড়ানোর আগে যাচাই করুন, এটি ইমানের দাবি। না জেনে প্রচার মিথ্যার সমতুল্য। আল্লাহ বলেছেন, “হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে।” (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ৬)

৪. দৃষ্টি সংযত রাখুন। অন্যের ব্যক্তিগত ছবি বা অশ্লীল কন্টেন্ট থেকে নিজেকে দূরে রাখুন, এটি আত্মার পবিত্রতা রক্ষা করে। আল্লাহ বলেছেন, “মুমিনদের বলো তাদের দৃষ্টি সংযত রাখতে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে।” (সুরা নুর, আয়াত: ৩০)

৫. গিবত ও উপহাস নিষিদ্ধ। অনলাইনে কাউকে নিয়ে উপহাস, ব্যঙ্গ বা গালাগালি কবীরা গুনাহ। আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা (গিবত) করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে?” (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২)

৬. লোকদেখানো এড়ান। খাবার-ভ্রমণের ছবি দিয়ে বাহবা পাওয়ার চেষ্টা বিনয় নষ্ট করে। ইসলাম লোকদেখানো কাজ নিষিদ্ধ করেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ওপর যে জিনিসের সবচেয়ে বেশি ভয় পাই, তা হলো ছোট শিরক (রিয়া বা লোকদেখানো আমল)।” (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২৩৬৮১)

৭. হিংসা থেকে বাঁচুন। অন্যের সুখী জীবন দেখে হীনম্মন্যতা বা হিংসা করবেন না। রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো; কারণ আগুন যেভাবে কাঠকে পুড়িয়ে দেয়, হিংসাও সেভাবে মানুষের পুণ্যকে খেয়ে ফেলে।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯০৩)

৮. নির্দিষ্ট সময় বিরতি নিন। নোটিফিকেশন থেকে দূরে থেকে নামাজের মাধ্যমে ডিজিটাল জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হোন। আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৪৫)

৯. পরিবারকে অগ্রাধিকার দিন। অনলাইন বন্ধুদের জন্য কাছের মানুষ অবহেলা করবেন না। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার রিজিক বৃদ্ধি এবং দীর্ঘায়ু কামনা করে, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৬)

১০. ভালো কন্টেন্ট শেয়ার করুন। সোশ্যাল মিডিয়াকে দাওয়াত ও জ্ঞান প্রচারে ব্যবহার করুন। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ভালো কাজের পথ দেখায়, সে ওই কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পাবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৯৩)

স্মার্টফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া নিজেই খারাপ নয়, বরং এর ব্যবহার পদ্ধতি আমাদের ভালো বা মন্দের দিকে নিয়ে যায়। ইসলামের এই নীতিগুলো অনুসরণ করলে ডিজিটাল যুগেও সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।