সরকার ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করবে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দুই কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব ক্রয় কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত হয়। ইন্দোনেশিয়ার পিটি ট্রিনিটি কাহায়া এনার্জি এই তেল সরবরাহ করবে। মোট খরচ ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রতি লিটার তেলের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১৪১ টাকা ২৮ পয়সা।
প্রস্তাব অনুসারে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি লিটার ১ দশমিক ১৫১ মার্কিন ডলারে সয়াবিন তেল সরবরাহ করবে। এতে মোট ২ কোটি লিটারের জন্য ব্যয় ২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
টিসিবির হিসাবে, গুদাম পর্যন্ত পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ যোগ করলে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৭৮ টাকা ৫৬ পয়সা হয়। স্থানীয় বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা নির্ধারিত।
সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় ক্রয় প্রস্তাবগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছে।
একই বৈঠকে সিঙ্গাপুরভিত্তিক তিন প্রতিষ্ঠান থেকে এক কার্গো করে মোট তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড ও গানভর সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে জুন মাসে সরবরাহের জন্য এই এলএনজি কেনা হচ্ছে। মোট ব্যয় ২ হাজার ১৮৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
আগামী ৮ থেকে ৯ জুন, ৯ থেকে ১০ জুন ও ১৪ থেকে ১৫ জুন এসব এলএনজি আমদানি করা হবে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এক কার্গোতে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার মিলিয়ন মেট্রিক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজি থাকে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রতি এলএনজির দাম কমেছে। আজকের আন্তর্জাতিক বাজারের দামের চেয়েও কম দরে বাংলাদেশ এসব কিনেছে। কিন্তু জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং অর্থ বিভাগ—কেউই প্রতি এমএমবিটিইউতে কত দাম পড়েছে, তা উল্লেখ করেনি। তবে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, আজ অনুমোদিত তিন কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ দাম ১৭ মার্কিন ডলারের একটু বেশি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে এই দাম ছিল ১০ ডলার। এপ্রিলে গড়ে ২০ ডলারের বেশি দামে কেনা হয়েছে, এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮ দশমিক ২৮ ডলারেও এক কার্গো কেনা হয়।






