কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) প্রযুক্তির কারণে ভবিষ্যতে চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন অনেকেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ঘিরে বিশ্বজুড়ে যখন চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই ভিন্ন এক কারণে আলোচনায় এসেছে ওপেনএআইয়ের তৈরি এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি। নিজেদের ভবিষ্যৎ জানতে চ্যাটজিপিটিরই শরণাপন্ন হচ্ছেন কেউ কেউ। চ্যাটজিপিটি চ্যাটবটের মাধ্যমে জ্যোতিষীর মতো হাতের রেখা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ জানার প্রবণতা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতূহল তৈরি করেছে।
ওপেনএআই সম্প্রতি তাদের ‘চ্যাটজিপিটি ইমেজ ২.০’ এআই মডেল বাজারে এনেছে। মডেলটি ব্যবহার করে অনেকে নিজের হাতের ছবি আপলোড করছেন। এরপর সেই ছবি বিশ্লেষণ করে ভিজ্যুয়াল ব্যাখ্যা জানাচ্ছে চ্যাটজিপিটি। উপস্থাপনাটি দৃষ্টিনন্দন ও সহজবোধ্য হলেও এর বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এটিকে অনেকেই আনন্দ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
ওপেনএআইয়ের দাবি, চ্যাটজিপিটি ইমেজ ২.০ এআই মডেলটি অনেক বেশি উন্নত, বার্তা বা লেখা উপস্থাপনে নিখুঁত, একাধিক ভাষায় দক্ষ এবং যেকোনো প্রম্পটকে বিস্তারিত ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান ব্যাখ্যায় রূপান্তর করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ মডেলটিকে হাত দেখার কাজে ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। আর এটি দৃশ্যত কাজও করছে।
প্রযুক্তিগতভাবে এই মডেল হাতের ছবি বিশ্লেষণ করে তাতে সরাসরি চিহ্ন বসাতে পারে এবং বিভিন্ন রেখা শনাক্ত করে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা তুলে ধরে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিত্ব, সম্পর্ক বা ভবিষ্যৎ জীবন নিয়েও মন্তব্য যুক্ত করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে কোনো পেশাদার জ্যোতিষীর সম্পৃক্ততা ছাড়াই।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণকে নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। কারণ, এতে ব্যবহৃত ভাষা সাধারণত এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য মনে হয়। ‘উদ্যমী’, ‘সংবেদনশীল’ বা ‘চিন্তাশীল’—এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়, যার সঙ্গে সহজেই নিজেকে মিলিয়ে নেওয়া যায়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে