হামের প্রকোপে শিশুমৃত্যু রোধে নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার রুলসহ আদেশ দেন।

রুলসহ আদেশের বিষয়টি আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) জানিয়েছেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী লুৎফে জাহান পূর্ণিমা। তিনি বলেছেন, সারা দেশে হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। টিকা সরবরাহে অবহেলা নিয়ে কমিটি হলে কতটুকু কী হয়েছে, সে বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

.

অবশ্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিদুল ইসলাম জনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, হামের প্রকোপ রোধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

.
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৭ এপ্রিল সকাল আটটা পর্যন্ত হামে ৪৪ শিশু ও হামের উপসর্গে ২২০ শিশুর মৃত্যু।
.

হামের প্রকোপে ভ্যাকসিনেশন কভারেজ ও ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা এবং এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ–সম্পর্কিত বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লুৎফে জাহান পূর্ণিমা ২ এপ্রিল রিটটি করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মহাপরিচালক এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালকসহ ছয়জনকে রিটে বিবাদী করা হয়। আদালতে রিটের পক্ষে আবেদনকারী নিজেই শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিদুল ইসলাম জনি।

.মৃত্যু সবই হামে, উপসর্গে নয় .

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামে ৪৪ শিশু ও হামের উপসর্গে ২২০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৩৩ হাজার ৩৮৬ শিশুর। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২২ হাজার ৪৪২ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১৯ হাজার ১৮ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

.দুই দশকে দেশে হামে সর্বোচ্চ মৃত্যু, বেশি মৃত্যুহারও